নদীতে মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলায় ভোলার উপকূলজুড়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে পরিবার। এ জেলায় নিবন্ধিত জেলেরা সরকারি সহায়তা পেলেও কোনো প্রকার সাহায্য না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলারা। কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
জেলায় সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন। ৫০ হাজারের বেশি অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিবন্ধিত জেলেরা জেলেরা সরকারি সহয়তা হিসেবে চাল পাচ্ছেন।
ভোলা সদর উপজেলার সোনাডগী গ্রামের জেলে জাকির হোসেন জানান, তার তিন মেয়ে রয়েছে। মাছ শিকার করে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়। ছোটবেলা থেকে এ পেশায় থাকলেও পাননি জেলে কার্ড। ফলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তিনি ও তার পরিবার চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
একই আক্ষেপ প্রকাশ করে তেঁতুলিয়া নদীর জেলে মোফাজ্জল মাঝি বলেন, কখনো জেলে ছিল না এমন লোকও এখন জেলে কার্ডের চাল পাচ্ছে, আর তারা আসল জেলে হয়েও চাল পান না।
দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন জানান, নিবন্ধিত জেলেরা সরকারি সহায়তা পেলেও অনিবন্ধিত জেলেদের পরিবারগুলোর বেঁচে থাকাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির নেতা আল মামুন বলেন, জেলেদের সঙ্গে এক বড় ধরনের বৈষম্য চলে, যেখানে আসল জেলেরা বঞ্চিত হয় আর নকল বা ভুয়া জেলেরা চাল পায়। যারা ভুয়া জেলে তাদের খুঁজে বের করে বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের কার্ড দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস জানান, বর্তমানে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারি চাল দেওয়া হচ্ছে। অনিবন্ধিত জেলেদেরকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন জানান, বিদ্যমান জেলে কার্ড অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যারা এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি, তাদেরকেও অতি দ্রুত কার্ডের আওতায় এনে সহায়তার পথ সুগম করা হবে।
