ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালার এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। স্বর্ণ ও হীরা কেনার উৎসের বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি আদালতকে বলেন, দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবির রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, তাদের আমদানি করা স্বর্ণ ও হীরা বৈধভাবে আনা হয়েছে। ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমদানির সব কাস্টমস সনদ তাদের কাছে রয়েছে। শুধু অভিযোগেরভিত্তিতে কাউকে চোরাকারবারি বলা যায় না বলেও যুক্তি দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আইনজীবী আরও বলেন, কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন থাকলে দিলীপ কুমার আগারওয়ালা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন। তার বয়স ও সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি তুলে ধরে মানবিক দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে আদালতের হাজতখানা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে বের করে পুলিশি পাহারায় এজলাসে নেওয়া হয়। লিফট নষ্ট থাকায় তাকে হেঁটে ষষ্ঠ তলায় উঠতে হয়। এজলাসে পৌঁছে কিছু সময় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। পরে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে আদালতে বক্তব্য দেন।
সিআইডির আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগারওয়ালার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানে স্বর্ণ ও হীরা কেনার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন সময়ে আমদানি, স্থানীয় বাজার থেকে কেনা ও বিনিময়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব পণ্যের বৈধ উৎসের নথি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আবেদনে আরও বলা হয়, এসব লেনদেনে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও হীরা কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। সিআইডির অভিযোগ, এসব পণ্য অবৈধ চোরাকারবারের মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে কি না এবং এর মাধ্যমে মানিলন্ডারিং হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর করা মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৮(৪) ধারায় রুজু হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সিআইডির অনুরোধে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তরের পর এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এমডিএএ/এসএনআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
