খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বেপরোয়া গতি ও চালকদের ওভারটেকিং প্রবণতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গিরপাড় নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিনজনের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— ট্রাকচালক জিন্নাত আলী (৪৫), যিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের বাসিন্দা এবং বাসযাত্রী সাইফুল ইসলাম (২৬), যিনি সাতক্ষীরার পারুলিয়া এলাকার দিন মোহাম্মদের ছেলে। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় (বাসের হেলপার) তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি; পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গিরপাড় এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনাগামী ‘ক্রাউন সিমেন্ট’ বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে (ডোবায়) পড়ে যায় এবং ট্রাকটি সড়কে উল্টে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক জিন্নাত আলী নিহত হন।
বাসে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে জানান, দুর্ঘটনার ঠিক আগে থেকেই বাসটির চালক অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও চালক তা আমলে নেননি। অতিরিক্ত গতির কারণেই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় জনতাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। সন্ধ্যার দিকে খাদে ডুবে থাকা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ভেতর থেকে বাসের হেলপার ও এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আহত অন্তত ২০ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুন্সি পারভেজ আলম জানান, বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক নিহত হন। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে খাদে পড়া বাসটি থেকে আরও দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
এ ছাড়া বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির নিচে কেউ আরও চাপা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
