কালবেলা · সাধারণ
রাউজানে দুর্গাপূজার আগে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারে বিষাদের ছায়া
১৫/১০/২০২৬

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে যেখানে চারদিকে বইছে আনন্দের হাওয়া, সেখানে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের পূর্ব ডাবুয়া রাম দয়াল মাঝির বাড়িতে মুহূর্তের মধ্যেই নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।
রোববার (১১ অক্টোবর) গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে এক নিমেষেই ভস্মীভূত হয়ে গেছে নারায়ণ দে, বিজয় চৌধুরী ও ওনার ভাই রাজু চৌধুরীর বসতভিটা।
স্থানীয়দের দাবি, একই সময় দুই পরিবারের বসতভিটার তিনদিক থেকে আগুন দেওয়া হয়। পরে পূজার মণ্ডপের পাশেও আগুন দেওয়া হয়। যদি সঠিক সময়ে আগুন নেভানো না যেত, তাহলে মণ্ডপের আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ত। এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই সম্ভব বলে জানিয়েছে তারা।
নারায়ণ দে’র ছোট ছেলে রিপন দে ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে কালবেলাকে বলেন, ‘রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে রুমের চারদিকের ধোঁয়া হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ ঘুম ভাঙে, উঠেই দেখি ঘরের পেছনে গোয়াল ঘরে আগুন। পরে ঘর থেকে বের হতেই দেখি দুর্গাপূজা মণ্ডপের দক্ষিণ অংশে বসতঘরের পাশে আগুন জ্বলছে। এ সময় আশপাশের সবাই ঘুম থেকে উঠে আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পরে। কিন্তু নেভানোর আগেই সবকিছুই ততক্ষণে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
রিপন দে বলেন, ‘পরিবারের জন্য পূজা উপলক্ষে কেনাকাটা করেছিলাম এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল।’
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নারায়ণ দে’র বসতভিটাটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।
রাজু চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কোনো রাজনৈতিক দল বা এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি আশপাশের কারো সঙ্গে কোনো প্রকার ঝামেলা বা বিরোধ নেই।’
থানায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিপন দে বলেন, ‘কী অভিযোগ করব? কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব। আমাদের পুরো পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে এই বিষয়ে তদন্ত করবে।’
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখছি, কে বা কারা এই ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও কাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার ব্যাপারে জানানো হয়েছে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗