বিশ্ব খাদ্যশিল্পের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘সিয়াল ২০২৬’-এর উদ্বোধন হয়েছে ফ্রান্সের ভিলপাঁতে শহরে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্যারিস-নর্দ ভিলপাঁতে প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এর উদ্বোধন করেন দেশটির কৃষি, কৃষি-খাদ্য ও খাদ্যসার্বভৌমত্ববিষয়ক মন্ত্রী আনি জেনেভার্ড।
আন্তর্জাতিক খাদ্যবাণিজ্য সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রসার এবং ফরাসি খাদ্যপণ্যের বিশ্ববাজারে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে এবারের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সিয়াল ২০২৬-এ প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আড়াই লাখের বেশি পেশাজীবী ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধির সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজিত এ প্রদর্শনী খাদ্যশিল্পের উৎপাদক, উদ্যোক্তা, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
প্রদর্শনীতে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরছে। কৃষিপণ্যের কাঁচামাল থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত ও প্রস্তুত খাদ্যপণ্য পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এতে স্থান পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগ, নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি এবং বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, ভোক্তাদের চাহিদা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থার বিকাশ সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।
ফরাসি খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব, এবারের প্রদর্শনীতে ফ্রান্সের খাদ্যপণ্যের গুণমান, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রী আনি জেনেভার্ডের বিভিন্ন প্রদর্শনী হল পরিদর্শন এবং খাদ্যশিল্পের উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রাখা হয়।
মন্ত্রী তাঁর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘টেস্ট ফ্রান্স’ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেন। এর মাধ্যমে ফরাসি খাদ্যপণ্য ও দেশটির সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক প্যাভিলিয়নে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলের উৎপাদন, খাদ্যঐতিহ্য ও পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হচ্ছে।
উদ্ভাবন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান ফরাসি খাদ্যশিল্পের সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের চাহিদা ও প্রতিযোগিতার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় পণ্যের মান বজায় রাখা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা ফরাসি খাদ্যশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্যসার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রান্সের অবস্থান সুদৃঢ় করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সিয়াল ২০২৬-এর আয়োজন ফরাসি খাদ্যশিল্পের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্যবাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় নতুন বাজারের সুযোগ কাজে লাগানো, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক সাফল্যে রূপ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে এবারের প্রদর্শনী কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
প্রকাশের আগে গুরুত্বপূর্ণ যাচাই: প্রদর্শনীর তারিখ, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, প্রত্যাশিত দর্শনার্থী এবং মন্ত্রীর নাম ও পদবি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবরের উদ্বোধন এবং উল্লেখিত পরিসংখ্যানের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
The post সিয়াল ২০২৬-এর উদ্বোধন, খাদ্য রপ্তানি বাড়ানোর প্রত্যাশা appeared first on ভোরের চেতনা.
