সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাকে মারধরে বাধা দিতে গিয়ে ভাতিজার কোপে নিহত হয়েছেন সুধা রানী মন্ডল (৫৫) নামে এক নারী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ভাতিজা রমেশ মন্ডলকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শ্যামনগর উপজেলার পারবাধঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুধা রানী মন্ডল ওই গ্রামের মধুসূদন মণ্ডলের স্ত্রী। আহত দুজন হলেন- অভিযুক্ত রমেশ মণ্ডলের মা কমলা রানী মন্ডল এবং নিহতের ছেলে সমীর কুমার মন্ডল। তাদের মধ্যে সমীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কমলা রানী শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আহত কমলা রানী মণ্ডলের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তার ছেলে রমেশ মাদকাসক্ত। মাদক কেনার জন্য তিনি প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। বুধবার রাতে এক হাজার টাকা চাইলে দিতে পারেননি কমলা রানী। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও টাকা চাইলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রমেশ দা দিয়ে মাকে কোপানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তার ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রমেশ তার চাচি সুধা রানী ও চাচাতো ভাই সমীর কুমার মন্ডলকে এলোপাতাড়ি কোপান। পরে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক সুধা রানীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সমীরকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত ভাতিজা রমেশ মন্ডলকে আটক করা হয়েছে। ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইব্রাহিম খলিল/এসএইচএ
