স্ত্রী মৌসুমী ও ছেলে ফারদিনকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। এসব প্রচারণা বন্ধ না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা এবং নারী শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত চর্চার সমালোচনা করেছেন এই অভিনেতা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওমর সানী। এ সময় পরিবারকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ওমর সানী বলেন, আমাদেরকে ক্যাশ করে কয় টাকা কামাই করবি বাবা তোরা? কী লাভ? এই টাকা কে খাবে—শিয়াল-কুকুরে খাবে। আমাদেরকে একটা ব্যবসার জিনিস বানিয়ে ফেলেছে।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো পোস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে মামলা করবেন। তার অভিযোগ, কিছু পেজ ও ব্যক্তি তাকে, স্ত্রী মৌসুমী এবং তাদের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছেন।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, ছেলে ফারদিন পরিবারের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসা থেকে মাকে বের করে দিয়েছেন। তবে এ খবরকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ওমর সানী। তিনি জানান, ফারদিন বর্তমানে দুবাইয়ে এবং মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিবারকে নিয়ে এমন প্রচারণায় বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়ে ওমর সানী বলেন, আমার ছেলে এসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার ছেলে বলেছে, আব্বু তুমি অ্যাকশনে যাও। এগুলো আর পারছি না।
স্ত্রী মৌসুমীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত আলোচনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন। স্বামী-স্ত্রী আলাদা দেশে থাকতেই পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা নিয়ে মনগড়া গল্প তৈরির কোনো অর্থ নেই।
চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা এবং নারী শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা শারীরিক গঠন নিয়ে অশালীন কনটেন্ট তৈরিরও সমালোচনা করেন ওমর সানী। তিনি বলেন, আমার শরীর নিয়ে আপনার এত টেনশন কেন? মৌসুমীর শরীর নিয়ে আপনার এত টেনশন কেন?
শিল্পীদের সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু চলচ্চিত্রকে বাঁচালে হবে না, চলচ্চিত্রের শিল্পী যারা আছেন, তাদেরও বাঁচাতে হবে।