Published on
:
2 min read
পুজোর ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে এমন কোনও জায়গায় ছুটি কাটাতে চান, যেখানে মিশে আছে সুদূর অতীতের রোমাঞ্চ, ইতিহাস আর প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপ। তা হলে পূর্ব বর্ধমান জেলার অজয় নদের তীরে অবস্থিত ‘পাণ্ডু রাজার ঢিবি’ হতে পারে আপনার এ বারের পুজো ভ্যাকেশনের সেরা ডেস্টিনেশন। এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ বেড়ানোর জায়গা নয়, বরং খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের এক প্রাচীন তাম্র-প্রস্তর যুগের নীরব সাক্ষী।
পাণ্ডু রাজার ঢিবির ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বাঙালির ইতিহাস চর্চায় পাণ্ডু রাজার ঢিবি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে এখানে প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার বহু নিদর্শন পাওয়া যায়। মনে করা হয়, সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক বা তার কাছাকাছি সময়ের এক উন্নত মানবসভ্যতা এখানে গড়ে উঠেছিল। স্থানীয়দের মতে, মহাভারতের রাজা পাণ্ডু বা কাল্পনিক কোনও রাজার নাম থেকেই এই অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে 'পাণ্ডু রাজার ঢিবি'। অজয় নদের পলিমাটির কোলে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক প্রত্নক্ষেত্রটি ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য।
এখানে এলে কী কী দেখবেন?
প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্র ও সংগ্রহশালা: অজয় নদের ধারে প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ এবং খননকার্য থেকে প্রাপ্ত নানা প্রাচীন মৃৎপাত্র, পুঁতি ও তামার অলঙ্কারের ইতিহাস জানার দারুণ সুযোগ রয়েছে এখানে।
অজয় নদের চর: অজয় নদের শান্ত জলরাশি এবং দুই পাড়ের সবুজ অরণ্য ও মেঠো পথ আপনার মন কেড়ে নেবে। নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখার আনন্দই আলাদা।
রাঢ় বাংলার নিবিড় গ্রামীণ রূপ: লাল মাটির রাস্তা, শাল-পিয়ালের বন এবং সাঁওতাল ও জঙ্গলমহল ঘেঁষা মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা শহরের ক্লান্তি নিমেষে ধুয়ে মুছে দেবে।
কী ভাবে যাবেন?
ট্রেনে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে বর্ধমানগামী ট্রেনে চেপে গুসকরা স্টেশনে নামতে হবে। গুসকরা স্টেশন থেকে টোটো, অটো বা বাসে করে খুব সহজেই পাণ্ডু রাজার ঢিবি পৌঁছনো যায়।
সড়কপথে: কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমান হয়ে গুসকরা বা ভেদিয়া রোড ধরে নিজের গাড়িতে বা ভাড়ার গাড়িতে সহজেই যাওয়া সম্ভব। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৩০-১৪০ কিলোমিটার।
কোথায় থাকবেন?
পাণ্ডু রাজার ঢিবি এলাকাটি মূলত একটি ঐতিহাসিক ও গ্রামীণ অফবিট স্থান। তাই এখানে বড় কোনও লাক্সারি হোটেল পাওয়ার আশা না করাই ভালো। তবে কাছাকাছি গুসকরা শহর কিংবা বোলপুর-শান্তিনিকেতনে বেশ কিছু ভালো হোটেল ও রিসর্ট পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে ডে-ট্রিপ হিসেবে এই জায়গাটি ঘুরে নেওয়া যায়।