উত্তর আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্যের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম পরিচালিত এই সিনেমাটি। এর আগে মাত্র তিন দিন আগেই তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন অভিনেতা চিরনজিৎ বিশ্বাস।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নতুন অর্জনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা তাওকীর নিজেই। তিনি জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় উৎসবের মূল মঞ্চে ‘দেলুপি’র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। তবে আনুষঙ্গিক কারণে বাংলাদেশ থেকে চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের কেউ সশরীরে লন্ডনে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি উপভোগ করার এবং আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে দেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিচালক।
লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জায়গা পাওয়ার আগেও বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসিত হয়েছে ‘দেলুপি’। ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ আসর নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল সিনেমাটি। এছাড়া ইতালির কারাভান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পরও এর স্বতন্ত্র গল্প ও বাস্তবসম্মত দৃশ্যভাষার জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিল চলচ্চিত্রটি।
প্রযোজনা সংস্থা ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘দেলুপি’র কাহিনি গড়ে উঠেছে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেখানে নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এবং তার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের নানা দিক এতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে কোনো পেশাদার অভিনয়শিল্পীর বদলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় মানুষরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
চলচ্চিত্রটিতে চিরনজিৎ বিশ্বাস ছাড়াও অভিনয় করেছেন অদিতি রায়, রুদ্র রায় ও জাকির হোসেনসহ খুলনার স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সংকট, নদীকেন্দ্রিক জনপদের লড়াই এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের নির্মোহ চিত্রায়ণের মাধ্যমে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমাকে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করছে।
