কালবেলা · সাধারণ
ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা জরুরি: সিসিক প্রশাসক
২৫/১০/২০২৬

পরিবহন সেক্টরের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, একজন চালক দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় অন্যকোনো অদক্ষ চালকের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন। অনেকের প্রাণ পর্যন্ত চলে যায়। এতে বিপদে পড়ে ওই শ্রমিকের পরিবার। বিএনপি সরকার শ্রমিকবান্ধব। সরকার সর্বদা শ্রমিকদের পাশে আছে। সিলেট সিটি করপোরেশনও সর্বদা শ্রমিকদের কল্যাণে পাশে থাকবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের পরিবারের মধ্যে কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকারের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সিসিক প্রশাসক বলেন, একজন কর্মক্ষম মানুষ পরিবার থেকে চলে গেলে শুধু ওই পরিবারই নয়, তার ওপর নির্ভরশীল সদস্যরাও বিপদে পড়েন। এ ধরনের মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংগঠনের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন সবসময় পরিবহন শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া কোনো কাজই সফলভাবে করা কঠিন। তাই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সিসিক প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে সংগঠনগুলো যেসব মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। একইসঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও পরিবারের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করে।
সংগঠনের সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নাজিম উদ্দীন লস্কর ও ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি সাহেব আলী, সহসভাপতি মানিক মিয়া, সহসাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত আবুল, প্রচার সম্পাদক হারিছ আলী, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, কার্যকরী সদস্য আজিজ আহমদ, সাইফুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন ও শেখ ফরিদ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল থেকে মৃত্যুবরণকারী সদস্যদের পরিবারের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়। অনুদানপ্রাপ্তরা হলেন গোয়ালাবাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের মরহুম হেলাল মিয়ার পরিবার; কদমতলী মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের মরহুম সোয়েদ আহমদের পরিবার ও মরহুম রফিক আহমদের পরিবার; সিলেট-ঢাকা বাস শ্রমিক মরহুম মুহিব উদ্দিনের পরিবার, মরহুম আতিকুর রহমানের পরিবার, প্রয়াত রঞ্জিত দেবের পরিবার ও মরহুম শিশু মিয়ার পরিবার; সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের বাস শ্রমিক প্রয়াত দিলীপ দেবের পরিবার; সিলেট-তামাবিল সড়কের মিনিবাস শ্রমিক মরহুম সুলেমান আলীর পরিবার, মরহুম সমছির আলীর পরিবার, মরহুম মোহাম্মদ আলীর পরিবার, মরহুম রেজাউল করিমের পরিবার, মরহুম ফলিক আহমদের পরিবার, মরহুম আব্দুল গনির পরিবার, মরহুম হিরা মিয়ার পরিবার, প্রয়াত প্রজেশ রঞ্জন দাসের পরিবার, প্রয়াত দীপু মালাকারের পরিবার, মরহুম জয়নাল আহমদের পরিবার, মরহুম ফরহাদ আহমদের পরিবার এবং মরহুম আনোয়ার হোসেনের পরিবার।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗