ঢাকার রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৩০০ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা জামায়াতে ইসলামী আজ দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে এবং জনগণের আস্থা অর্জনই রাজনীতির সবচেয়ে বড় সাফল্য; এ সময় তিনি আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করা ও নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
৩০০ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা জামায়াতে ইসলামী আজ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, রাজনীতিতে জনগণের আস্থা অর্জন সবচেয়ে বড় সাফল্য। জামায়াতে ইসলামী এদেশের জনগণের আস্থাশীল একটি রাজনৈতিক আদর্শিক সংগঠন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীত ও ঐতিহ্য ধারণ করে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো ইসলাম ও মানবতার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইসলামের নীতিমালা জামায়াতে ইসলামী অনুসরণ করে বলেই এদেশের জনগণের আস্থা তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, শুধু একাত্তর নয়, চব্বিশ-পরবর্তীও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানারকম ন্যারেটিভ তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু জনগণ কোনো ন্যারেটিভ গ্রহণ করেনি। বরং ন্যারেটিভ তৈরিকারীদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, যারা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, তারা নিজেরাও নিজেদের বিরুদ্ধে ফতোয়া নাজিল করে। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর মনগড়া ফতোয়া দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রমের চেয়ে আরও ভালো কোনো কার্যক্রম যদি কেউ পরিচালনা করতে পারে, তবে জামায়াতে ইসলামী তাদের বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করবে, ইনশাআল্লাহ।
আমীরে জামায়াত বলেন, রাসূল (সা.) দুটি যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করলেও অন্য যুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করে বিপরীত দিক থেকে বিজয় অর্জন করেছিলেন। বিজয়ের অন্যতম শর্ত হচ্ছে কৌশল অবলম্বন করা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কৌশলকে তারাই গুপ্ত বলে, যারা দেশের সংকটকালে কৌশল অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার চারটি আসন ডাকাতি করে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ঢাকাবাসীকে চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করতে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আবারও নির্বাচনে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, শুধু স্লোগান দিয়ে বিপ্লব হয় না। বিপ্লবের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার না করে সরকার জাতিকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনগণ রাজপথে নেমে এলে পরবর্তী বিপ্লব কেউ ঠেকাতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণ রাজপথে নেমে আসার আগে গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করলে সরকারই উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় নিতে চাই না। আমরা ইসলামের বিজয়ের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় চাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এদেশে নামাজ কায়েম হবে, যাকাত আদায় হবে, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। সমাজে মাদক, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ থাকবে না। ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ ইসলামী দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আসন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে কোনোভাবেই ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করতে দেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহতভাবে সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে পৌঁছাতে হবে। সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য আমাদের কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের বিজয়ের জন্য আপসহীন ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের বিজয় যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, এ জন্য ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত থাকতে তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে বর্তমান ডাকসু যেভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনগণ আমাদের নির্বাচিত করলে একইভাবে নগরবাসীকে একটি আধুনিক সিটি করপোরেশন উপহার দেওয়া হবে। ঢাকাকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য যথাক্রমে সাইফুল আলম খান এমপি, মোবারক হোসেন প্রমুখ।
এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
