মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাংলা লোকসংস্কৃতিতে তাঁর অনন্য অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার ও ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী মো. বাদলুর রহমান খান এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।
হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শন ও সংগীতের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লালন সাঁইয়ের গানে দেহতত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্য দিয়ে মানবদেহ, আত্মপরিচয় ও অন্তর্নিহিত সত্য অনুসন্ধানের ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর গান শুধু সংগীত নয়, বরং জীবন ও মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার একটি দার্শনিক মাধ্যম।
অন্যান্য বক্তারা লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে লালন সাঁই তাঁর গান ও দর্শনের মাধ্যমে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। আত্মানুসন্ধান, মানবপ্রেম এবং মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তাকে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রেও তাঁর গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের গান পরিবেশন করেন সানওয়ে ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আবির হাসান রাফি এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের কনস্যুলার অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রাজ্জাক রাজ। তাঁদের পরিবেশনায় লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন ও বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
