কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ৭৮ জন, আগের মামলার আসামি ৪৫ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২১ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সাতজন, ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ২৯ জন, পরোয়ানাভুক্ত ৭৮ জন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত ১৮ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া মাদক মামলায় ৩৩ জন মাদকসেবী এবং নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭৪ জনকে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২২ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৩০টি মামলা করা হয়েছে।
অভিযানে ২ হাজার ৪০৩টি ইয়াবা, ১৭ লিটার চোলাই মদ, ৩৫ কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, চার বোতল হুইস্কি, চার বোতল স্কাফ এবং ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের ছয় সদস্য গ্রেপ্তার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে একজন করে এবং খাগড়াছড়িতে দুজন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১১৬
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১১৬ জনের মধ্যে ৭৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক আটকের মধ্যে চট্টগ্রামে ৩৯ জন, কক্সবাজারে ১১, কুমিল্লায় ১১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩, নোয়াখালীতে ১১, লক্ষ্মীপুরে নয়, রাঙামাটিতে ছয় এবং খাগড়াছড়িতে ১৬ জন রয়েছেন।
জনস্বার্থে অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
