সাকিবুল হাছান
সরকারি সাত কলেজ ঢাবি অধিভুক্তি বাতিল হলেও চলমান বর্ষগুলোর শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম এখনো পরিচালনা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু বছরের পর বছর এই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যায় ভুগে আসছে, বিশেষ করে ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা, ফলাফল ধ্বস কিংবা গণফেলের মতো ঘটনাগুলো নিয়ে। পরীক্ষার পর ফলাফল প্রকাশে ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত দেরি হওয়া এখন যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চাকরি বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিগত বছরগুলোতে যেসব সমস্যার অভিযোগ ছিল, সেগুলো আজও রয়ে গেছে অবিকল। চলতি বছরে প্রকাশিত বিভিন্ন বিভাগের ফলাফল আবারও শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। কোনো কোনো কোর্সে দেখা গেছে—সব শিক্ষার্থীর ফলাফলই অত্যন্ত খারাপ, অথবা তুলনামূলক ভালো পরীক্ষা দিয়েও প্রত্যাশিত নম্বর পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রেই এমন অভিযোগ উঠছে যে, পরীক্ষায় সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না, কিংবা ভাইভায় অপ্রত্যাশিতভাবে ফেল দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি অনার্স ৩য় বর্ষের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কোনো একটি বিষয়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল, কিংবা নম্বর বিতরণে অসঙ্গতি—সব মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু তাদের শিক্ষাজীবনকে নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান এ বিষয়ে বলেন,
"সরকারি সাত কলেজ ঢাবি অধিভুক্তি বাতিল হলেও চলমান বর্ষ গুলোর শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাবি প্রশাসন। বিগত বছর গুলোতেও অভিযোগ ছিল ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা, ফলাফল ধ্বস কিংবা গণফেল নিয়ে। এই সমস্যা গুলো এখনো বিদ্যমান। চলতি বছরে প্রকাশিত কয়েকটি বিভাগের ফলাফল আমাদের হতাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে শিক্ষকদের এরুপ বৈষম্যমূলক আচরণ আমাদেরকে পিছিয়ে দেয়। দেখা যায় কোন একটা কোর্সে সবার রেজাল্ট খারাপ অথবা তুলনামূলক ভালো পরিক্ষা দিয়েও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। একইসাথে রয়েছে অযৌক্তিক ইম্প্রুভমেন্ট ফি। এরুপ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।"
এভাবে একের পর এক প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, বৈষম্যমূলক মূল্যায়ন এবং অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে মেধা, সময় এবং সুযোগ—সবই হারিয়ে যাবে, আর তার প্রভাব পড়বে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষার মানেও। তাই শীগ্রই সাত কলেজের সকাল কার্যক্রম প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতে ন্যস্ত করতে হবে।
