Published on
:
2 min read
এই সময়: কারও কোনও কথায় কান নয়, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে নিজের মতো করে কাজ করার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের কুঁদঘাট সংলগ্ন ইটখোলা এলাকায় কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে সংস্কার হওয়া দু’টি জলাশয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অগ্নিমিত্রাও।
সেই মঞ্চ থেকে পুরমন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু লোক আছে, যারা কিছু করেনি। কিন্তু পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রোঅ্যাক্টিভ কাজ করছেন। অগ্নিমিত্রাদি অফিসেও বসেন, রাস্তাতেও থাকেন।’ এরপরে সরাসরি কারও নাম না–করে শুভেন্দু বলেন, ‘ওদের খুব যন্ত্রণা, খুব জ্বালা! হাতে একটা করে মোবাইল আছে। সঙ্গে ফেসবুক ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আমি ওঁকে (অগ্নিমিত্রা) বলেছি, ইগনোর দেম।’
প্রসঙ্গত, পুরমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কলকাতা–সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাস্তায় নেমে কাজ করতে দেখা গিয়েছে অগ্নিমিত্রাকে। এ নিয়ে কিছু বিরোধী দল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজ়েনদের একাংশ খোঁচা দিয়েছেন মাঝেমধ্যে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের একাংশে এমনও বলা হয় যে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে নাকি মুখ্যমন্ত্রী কয়েকজন মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে পরামর্শ দিয়েছেন, বেশি রাস্তায় না–নেমে দপ্তরে বসেই কাজের তত্ত্বাবধান করতে। এরপরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের একটি পোস্ট ট্যাগ করে অগ্নিমিত্রা মিডিয়ার ওই অংশের উদ্দেশে লেখেন, খবরটি সত্য নয়। এই আবহে এ দিন প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে অগ্নিমিত্রার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এ দিন বিরোধীদের উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, ‘ওরা পাবলিকের কাছে রিজেক্টেড হয়েছে। ভবিষ্যতে কলকাতা কর্পোরেশনের ভোটেও রিজেক্টেড হবে। আপনি একদম চরৈবেতি মন্ত্রে এগিয়ে যান। আপনার সঙ্গে পুরো সরকার আছে।’ এ দিন অগ্নিমিত্রাকে ‘খুব কাজের মানুষ’ বলেও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পরে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘এক জন মন্ত্রী হিসেবে আমি যখন সরাসরি মাঠে নেমে মানুষের জন্য কাজ করি, তখন অনেক সময়ে সমালোচনা ও ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নাগরিকদের সমস্যা বোঝা, সেই সমস্যাগুলির সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা এবং কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা।’ তাঁর সংযোজন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আমার কাজের স্বীকৃতি ও প্রেরণাদায়ক কথা শুনে আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেলাম।’
তৃণমূল জমানায় তৎকালীন শাসকদলের কাউন্সিলারদের বিঁধে শুভেন্দু এ দিন বলেন, ‘জোকা, হরিদেবপুর থেকে একেবারে বারাসত পর্যন্ত কেএমডিএ–র অন্তর্ভুক্ত এলাকায় বিগত সরকার এবং তাঁদের যাঁরা স্কোয়্যার ফুট কাউন্সিলার ছিলেন, তাঁরা পাঁচ হাজার পুকুর বুজিয়েছিলেন। পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিলেন।’
কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তায় কুঁদঘাট সংলগ্ন ইটখোলায় দু’টি বড় জলাশয় সংস্কার করে রবীন্দ্র সরোবরের আদলে একটি উদ্যান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল কলকাতা পুরসভা। সোমবার ‘ইটখোলা–১ ও ২’ বলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, পুরমন্ত্রী তাঁকে দু’টি জলাশয়ের নামকরণ করার অনুরোধ করেছেন। সেই মতো মুখ্যমন্ত্রী একটি জলাশয়ের নাম রাখেন, ‘শিব জলাধার’, অন্যটির নাম দেন ‘সুলক্ষণা।’ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু ও অগ্নিমিত্রা ছাড়াও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।