রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জানতে চেয়েছেন, কী আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব কোনো উদ্বেগ থাকলে প্রশাসনের উচিত তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা। অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা কি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী? তাঁর মতে, পবিত্র কোরআন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। তাই রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
আমির হামজা আরও বলেন, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত। ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার।
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় ধর্মীয় বক্তা ও মাহফিল ঘিরে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। আমির হামজা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। রাজশাহীর ঘটনা সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তিনি জানান, তাঁর বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় মাহফিল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজক কমিটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের।
এক ভিডিও বার্তায় মুজিবুর রহমান বলেন, ধর্মীয় আলোচনা ও তাফসির মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো ধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমন আচরণ করা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
