মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অন্যতম অসুস্থতা। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৮ ভাগ লোক মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন।
এর মধ্যে ১৫-২০ শতাংশ সার্ভিকোজেনিক হেডেকে ভুগেন। সার্ভিকোজেনিক হেডেক এমনি একটি মাথাব্যথা যার উৎপত্তি ঘাড় থেকে।
এ ক্ষেত্রে ঘাড়ের মাংসপেশি যেমন-ট্রাপিজিয়াস মাসেলের ওপরের অংশ, লিভেটর স্ক্যাপুলি, অক্সিপিটালিস মাসেল খাট হয় ও ঘাড়ের ফ্ল্যাক্সর গ্রুপের মাংসপেশি যেমন-লঙ্গাস ক্যাপিটাস ও লঙ্গাস কোলাই দুর্বল হয়। মাথার এক্স-রে, সিটিস্ক্যান, এমআরআই-এ সাধারণত কোনো অসুবিধা পাওয়া যায় না। কারণ ব্যথায় কষ্ট থাকে ঘাড়ের উপরিভাগে।
ঘাড়ের অন্য স্ট্রাকচার যেমন-আপার সার্ভাইক্যাল ফ্যাসেট জয়েন্ট, আপার সার্ভাইক্যাল মাসেল, সি২-৩ ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক, কেরোটিড আর্টারি, ডুরামেটার, আপার স্পাইনাল কর্ড, ঘাড়ের পেছনে ক্রেনিয়াল ফোছা এ ধরনের মাথাব্যথা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া উইফ্লাস ইঞ্জুরি, ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত স্ট্রেস, অসঠিক ভঙ্গিতে পড়াশোনা, কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার, অফিসওয়ার্ক ও সামনের দিকে ঘাড় বাঁকা করে দীর্ঘ সময় কাজ করা থেকেও সার্ভিকোজেনিক হেডেক হয়।
সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথার রোগীর, ঘাড়ের ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন করলে তার আপার ক্রস সিনড্রম পাওয়া যায়। এ ছাড়াও রোগীর ফরওয়ার্ড হেড পোশ্চার থাকে ও রোগীর জয়েন্ট মবিলিটি কমে যায়। ঘাড়ের ও কাঁধের বিভিন্ন মাংসপেশি শক্ত বা টাইট হয়ে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে অনেকের চোখ, কপাল, কানের পাশে ও থুতনিতে ব্যথা হয়ে থাকে। তরুণ-তরুণী থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন। মহিলারা পুরুষের চেয়ে ৪ গুণ বেশি এ মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন।
আমার কাছে যারা এ ধরনের মাথাব্যথার কষ্ট নিয়ে আসেন তাদের মধ্যে অনেকেই ৫-১০ বছর এমনকি ২০ বছর ধরে এ কষ্টে ভুগে থাকেন। তার কারণ ব্যথার উৎপত্তি ঘাড় থেকে সুতরাং চিকিৎসা ঘাড়ের যে স্ট্রাকচার মাথাব্যথা তৈরি করছে সে স্ট্রাকচারে করতে হবে। দীর্ঘ ৪০ বছরের প্র্যাকটিসে দেখেছি অধিক সময়ের কিংবা ১০-২০ বছরের মাথাব্যথার অধিকাংশ রোগই বলে থাকেন তারা ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে কষ্ট মুক্ত হন।
মাথাব্যথার অত্যাধুনিক চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে-চিন টাক এক্সারসাইজ, ৬টি পয়েন্টে ডিপফ্রিকশন, ঘাড়ের সফট টিস্যু মোবালাইজেশন, স্ট্রেসিং, স্ট্রেন্দেনিং ও মায়োফেসিয়াল রিলিজ। তার সঙ্গে লো-লেভেল লেজার থেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, হট বা কোল্ডথেরাপি (অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী) ব্যবহার করতে হবে।
খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে যেমন-আদার রস খালিপেটে দিনপ্রতি ১ চা-চামচ (যদি ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন বা ব্লাড প্রেসার বেশি না থাকে), আনারসের মাঝের অংশ, কালো আঙুর/জাম, পাকা পেঁপে, পাকা কলা, পাতাকপি, গাজর, টমেটো খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। প্রচুর পানি পান করুন। ব্যথা থাকলে-লবণ, সাদা খাবার (যেমন-সাদা আটা, চাল, ব্রেড ইত্যাদি), লাল এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস (গরু, খাসির মাংস), দুধের তৈরি খাবার ও চিনি পরিহার করুন। ধূমপান বর্জন করুন।
লেখক:
মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিসঅর্ডারস বিশেষজ্ঞ, লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার, পান্থপথ, ঢাকা।