Published on
:
2 min read
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। দিল্লি জুড়ে চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। এর মধ্যে পিলভিটে ১০ হাজারের বেশি ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য বদলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপ্রদেশে। শুক্রবার এই ঘটনাকে ‘ভুল নয়, অপরাধ’ বলে মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া। রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পিলভিটের ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ প্রথম সামনে আসে ১৪ অক্টোবর। ওই দিন জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী ফৈজান আলি খান। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। এর পরে ১৯ অক্টোবর এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় সমাজবাদী পার্টি। আলাদা ভাবে অভিযোগ জানায় কংগ্রেসও। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেন নবদীপ।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নির্দেশে শুরু হয় তদন্ত। তাতেই উঠে আসে, প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র ও নথি ছাড়াই ভোটারদের তথ্য সংশোধনের ১০,৪৭০টি আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম বা অন্য তথ্য সংশোধনের জন্য ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হয়। কিন্তু পিলভিটে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তথ্য সংশোধনের জন্য ভোটাররা আবেদনও করেননি বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
ঘটনার পরেই পিলিভিটের পুরনপুরের তৎকালীন এসডিএম তথা ERO মায়াঙ্ক গোস্বামী, আমরিয়ার তৎকালীন এসডিএম তথা ERO হেমন্ত কুমার চৌধুরী এবং ভোটার রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের কম্পিউটার অপারেট অনিল কুমারকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দায়ের হয় মামলা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া বলেন, ‘পিলভিটে যা ঘটেছে, সেটা কোনও ভুল নয়, অপরাধ।’ দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পিলিভিটের ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের সব জেলার আধিকারিকদের ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। অন্য কোথাও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখতে বলা হয়েছে। ভোটার তালিকায় সংশোধনের ক্ষেত্রে যাতে নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
