জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও নগরীর পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাড়ি নির্মাণের সময় গাছ লাগানোর পর্যাপ্ত জায়গা রাখা এবং আধুনিক ফ্ল্যাটবাড়ির ছাদে বাগান গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে নগরীর ঐতিহাসিক শহিদ হাদিস পার্কে ‘শৌখিন বাগানীদের বৃক্ষমেলা ও প্রদর্শনী-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “গাছের পরিচর্যা, গাছকে লালন-পালন করা এবং উপহার হিসেবে অন্যকে গাছ দেওয়ার মধ্যে অনন্য এক আনন্দ রয়েছে। এই আনন্দ থেকেই নগরীর ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের মধ্যেও অনেকে ছাদবাগান গড়ে তুলছেন। বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহতি উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারের এই জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও নগরীতে ইতিমধ্যেই ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে এক লাখ বৃক্ষের একটি সুন্দর বন গড়ে তুলতে বিকাশ-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘হবে সবুজ পৃথিবী, সুন্দর জীবন—যদি করি বৃক্ষরোপণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজে হাসি-সবুজে বাঁচি’ দ্বিতীয়বারের মতো এই বৃক্ষমেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। শহিদ হাদিস পার্কে আয়োজিত এই মেলা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি কেসিসি প্রশাসক সফল ছাদবাগানিদের মাঝে উৎসাহমূলক সনদপত্র বিতরণ করেন। পরে তিনি মেলায় প্রদর্শিত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ভেষজ গাছের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আমিরুল খসরুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা আকন্দ। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, নগরীর বিশিষ্ট ছাদবাগানি ও প্রকৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
