ছবির ক্যাপশন: .
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মিলনায়তনে আজ বুধবার (১৪ মে) দুপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো তরুণ ও নারীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ: এনজিওর ভূমিকা’ শীর্ষক ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনের পর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সরকার ইশতেহারে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তাঁর ভাষ্য, “সবার অনার্স-মাস্টার্স করার প্রয়োজন নেই। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়াতে হবে।”
মাহদী আমিন বলেন, কেবল সনদ অর্জন নয়, বাস্তব দক্ষতা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সরকার এমন একটি সমন্বিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থান কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ থাকবে।
সরকারের তিন মাসের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, বাক্স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যৌক্তিক সমালোচনার সুযোগও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
সভায় কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ও কৃষিঋণের মতো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির পাইলট কার্যক্রম শুরুর তথ্য তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।
বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে এনজিওগুলোর অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এককভাবে নয়, বরং এনজিওগুলোকে বাস্তবায়ন অংশীদার হিসেবে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, এ খাতে দক্ষ জনবলও গড়ে তুলতে হবে। বিদেশেও এ ধরনের দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তাই এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
