কালবেলা · বিনোদন
‘যে নদী মরু পথে’র নায়িকা নাসিমা খান আর নেই
১১/১০/২০২৬

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের পর্দায় একসময় নিয়মিত উপস্থিতি ছিল তার। ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করা অভিনেত্রী নাসিমা খান এবার চিরবিদায় নিলেন। ৮২ বছর বয়সে রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার এই নায়িকার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন নাসিমা খান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক পর্যায়ের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাসিমা খান। বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী।
নাসিমা খানের পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে তাদের পরিবার লালবাগে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করে।
অভিনেত্রী হিসেবে নাসিমা খানের পথচলা শুরুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন অভিনেতা আনিস, যিনি খান আতা নামেও পরিচিত। সে সময় ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা পরিচিতি পেয়েছিলেন। নাসিমাদের বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন আনিস। নাসিমার বাবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে আনিসই নাসিমাকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য তার বাবাকে পরামর্শ দেন।
১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন তিনি। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন নাসিমা। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।
১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর বাংলা ও উর্দু ভাষার একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি। ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে যারা অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, নাসিমা ছিলেন তাদেরই একজন।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। এসব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ‘আসবন গ্যায়ে মতি’ চলচ্চিত্রেও অভিনয়ের সুবাদে বিশেষ পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী।
চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর পরবর্তী সময়ে নাটকে বেশি দেখা গেছে নাসিমা খানকে। অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও শিল্পের সঙ্গে তার সংযোগ বজায় ছিল। বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তার কাজ ষাটের দশকের ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন হারাল সেই সময়ের এক অভিনেত্রীকে, যিনি রুপালি পর্দার শুরুর দিকের যাত্রায় রেখেছিলেন নিজের অবদান।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗