স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
‘কাই’কে তার পরিবারের একজন ছিলো। দীর্ঘদিন আদর করে পুষেছেন। যে কাই তার সঙ্গে খেলতো ঘুরতো তাকে হঠাৎ করে এমন গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করাটা মেনে নিতে পারছেন না ইপ্সা নাজিয়া আদিবা। তিনি বলেছেন, কাই তার কাছে পরিবারের সদস্যের চাইতেও বেশী কিছু।
রাজধানীর গুলশানে গাড়িচাপায় দিয়ে পোষা কুকুর কাইকে হত্যার অভিযোগে একটি গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন আদিবা। বৃহস্পতিবার চার বছর বয়সী কাই সাইবেরিয়ান হাস্কি জাতের কুকুর ‘কাই’কে চাপা দেওয়া গাড়িটি জব্দ করা হয়। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর গুলশান-২ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঘটনার পর আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন আদিবা। একটি কালো টয়োটা ফরচুনার গাড়ি সড়কে ঘোরানোর সময় সামনে থাকা কুকুরটির ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথম দিকে ফুটেজে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর স্পষ্ট না হওয়ায় সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গাড়িটি বা এর মালিক সম্পর্কে তথ্য চেয়ে গুলশান এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তা চান আদিবা।
পরে গত ১১ অক্টোবর কুকুর হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আদিবা। পরে ওই পোস্টের সূত্র ধরে গাড়িটি শনাক্ত করতে সহায়তা করেন অনেকে। গত ১২ অক্টোবর গুলশানের ৬৮ নম্বর সড়কের একটি বাসায় গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে গুলশান থানায় মামলা করেন আদিবা।
গুলশান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, সড়কে খেলার সময় কুকুরটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে একটি কালো টয়োটা ফরচুনার গাড়ি। এঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে এ ঘটনায় মামলা করেন ইপ্সা নাজিয়া আদিবা।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। গাড়িটি একটি বাসায় প্রবেশের সময়ের ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এসআই সাখাওয়াত বলেন, পোষা কুকুরটির মৃত্যুর ঘটনায় চালকের অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার সময় চালকের আসনে কে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মালিক আদিবার অভিযোগ, চাপা দেওয়ার পরও গাড়িটি থামানো হয়নি। আশপাশের ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলেও চালক গাড়ি থেকে নামেননি।
আদিবা বলেন, কীভাবে কেউ একটি অসহায় প্রাণীকে গাড়িচাপা দিয়ে এমনভাবে চলে যেতে পারেন, যেন কিছুই ঘটেনি? ভবিষ্যতে অন্য কারও সন্তান বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দায়ী চালককে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
