অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারবো না। তাদের প্রতিটি আচরণে মনে হচ্ছে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। গতকাল শুক্রবার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি, লংমার্চ করছি। তিনি বলেন, অবিলম্বে দুর্নীতির পথগুলো বন্ধ করা উচিত। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মানবাধিকার কমিশন, গুম, খুন রোধ করার জন্য আমরা স্বাধীন কমিশন করার কথা বলেছি।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রশাসনের সর্বত্র নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। আমাদের সন্তানরা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য, বৈষম্য নির্মূলের জন্য আন্দোলনে নেমেছিল। কোটা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মেধা হত্যা করা হয়েছে অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে। একই পথে হাঁটছে বর্তমান নব্য ফ্যাসিবাদ। নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় একজন দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নির্লজ্জ দলীয়করণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো শামসুল আলমের নিয়োগ।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারবো না। তাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যাই।
এরকম পরিস্থিতি তৈরি করে দিলে জনগণের কিছু বলার নাই। ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক। সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারে। দেশের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত যারা রয়েছেন হেডকোয়ার্টারে, জেলা ও উপজেলা সর্বত্র, সবার প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, প্রতিটি জনগণের নিরাপত্তা দেবেন। কারণ এ দায়িত্ব হলো সরকার ও প্রশাসনের। সে জায়গায় যেন সরকার কারও উসকানি এবং বিশৃঙ্খলা করার সামান্যতম নমুনা যদি থাকে, তাহলে সে ব্যাপারে যেন আগেই ব্যবস্থা নেন। ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।
এতে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এদিন প্রায় ১ হাজার গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা যাবে। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। এই পথযাত্রায় মিডিয়াকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
বিআলো/অর্নব