বরগুনার পাথরঘাটায় কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম আহসানের ওপর হামলা, মারধর, হত্যাচেষ্টা ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম থাকা আটজন বিএনপির কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২০ অক্টোবর রাতে পাথরঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন আহত শিক্ষকের স্ত্রী অজুফা আক্তার। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে চাঁদা দাবির অভিযোগ, মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কিরণপুর মাদ্রাসার কাছে প্রধান শিক্ষক শামীম আহসানের পথরোধ করেন মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহীম খলিল নয়ন। এ সময় তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, দাবিকৃত টাকা দিলে শামীম আহসান নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে পারবেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। তবে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। দুই দিন পর হামলার অভিযোগ, এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, এর দুই দিন পর ১৫ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে কেরামতপুর বাজারের কাছে যাওয়ার পথে শামীম আহসানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। এ সময় কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, স্টিলের টেলিস্কোপিক ব্যাটন, জিআই পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর বুক, মাথা, দুই হাত ও পায়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন,হামলার পর স্থানীয় লোকজন আহত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শামীম আহসান একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায়ও মামলার ৫ নম্বর আসামির নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন বলে দাবি করেছেন বাদী। মামলা নথিভুক্ত, তদন্তের অপেক্ষা,এ ঘটনায় চাঁদা দাবি, মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
The post পাথরঘাটায় প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা appeared first on ভোরের চেতনা.
