The Sangbad · সাধারণ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও খাল উদ্ধারে এবার ২০ কমিটি
১৮/১০/২০২৬

রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, খাল উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নতুন করে একগুচ্ছ ‘উচ্চপর্যায়ের’ কমিটি গঠন করেছে সরকার।তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মাঠপর্যায়ে কাজের চেয়ে আমলাতান্ত্রিক এই তদারকি কমিটির সংখ্যা বৃদ্ধি কাজের গতি বাড়ানোর বদলে সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে।রবিবার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০টি জোনে ২০টি বিশেষ তদারকি কমিটি কাজ করবে। এসব কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা। মূলত প্রধানমন্ত্রীর ‘নির্দেশনা ও অনুশাসন’ বাস্তবায়নে এই তোড়জোড় শুরু হয়েছে।সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ২০টি জোনাল কমিটির কাজ তদারকি করতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরকে আহ্বায়ক করে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের ‘মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ কমিটির ওপর কমিটির এই কাঠামোতে মাঠের মশক নিধনকর্মীদের চেয়ে টেবিলের কর্মকর্তার সংখ্যাই বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় জানানো হয়, এসব কমিটি মশক নিধন, খালের সীমানা নির্ধারণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম তদারকি করবে। কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ওয়াসা, পুলিশ ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।তবে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নিয়মিত মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার আলাদা কমিটি গঠন করতে হচ্ছে? অতীতেও এ ধরনের অসংখ্য টাস্কফোর্স ও কমিটি গঠন করা হলেও রাজধানীর খালগুলো দখলমুক্ত হয়নি কিংবা ডেঙ্গু পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি ঘটেনি। বরং একেকটি সংস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তিতে কাজের দায়ভার এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে মশা মারার লোক বা সরঞ্জামের অভাব যতটা না প্রকট, তার চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত তদারকি। ২০টি জোনে ২০ জন পরিচালকের অধীনে এতগুলো বিভাগের প্রতিনিধি নিয়ে সমন্বিত কাজ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে।’বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে এমন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা অনেকটা ‘রথ দেখে কলা বেচার’ মতো। যখন মশা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও কার্যকর কীটনাশক প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়ার কথা, তখন সরকার আমলাতান্ত্রিক কমিটি গঠন করে দায় সারতে চাইছে কি না—সেই প্রশ্নও উঠছে।সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗