ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহেল হত্যা মামলায় বাবা-ছেলেসহ চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা দায়রা জজ আদালতের চতুর্থ অতিরিক্ত বিচারক ফারজানা আহমেদ এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার কাহিহারী বাঘাদাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বেপারী (৭৫), তার দুই ছেলে আলমগীর মিয়া (৫৩) ও রনি (৩৭) এবং আব্দুস সাত্তার বেপারীর ছোট ভাই আশিকুর রহমান আশিক (৩৫)।
দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে আব্দুল সাত্তার বেপারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার দুই ছেলে আলমগীর হোসেন আলম বেপারী ও রনি বেপারী এবং অপর আসামি আশিকুর রহমান আশিক পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৮ মে ত্রিশালের কাহিহারী ইউনিয়নের বাগাদাড়িয়া গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামিদের সঙ্গে সোহেলের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত সোহেলকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সোহেলের বাবা আব্দুল সালাম বেপারী ২০১১ সালের ২ জুন ত্রিশাল থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত চার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের ভাই ইমতিয়াজ হাসান রাজিব জানান, আমরা এই রায়ে ন্যায় বিচার পায়নি, আমরা সন্তুষ্ট না। উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচারের জন্য আপিল করব।
