বিয়ের মাত্র নয় মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ডিগ্রিরচরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে ভোরে গাজীপুরের কালীগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় তাঁর মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ডিগ্রিরচরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।
সন্ধায় মিজানুরের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
যে মানুষটি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে বাড়ি ফিরতেন, সেই মানুষটিকেই এবার নিথর দেহে ফিরে পেতে হলো স্বজনদের।
তিন বছর আগে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া মিজানুর চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিয়ে করেছিলেন।
সংসারজীবনের শুরুতেই তাঁর এমন চলে যাওয়া স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য গভীর শোক বিরাজ করছে।
জানা যায়, শুক্রবার ভোরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মিজানুর রহমানসহ দুজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় মিজানুরকে। এ সময় স্বজনেরা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহতের বড় ভাই মুফতি আক্তারুজ্জামান বলেন, তিন বছর আগে আমার ভাই পুলিশে যোগ দেয়। পরিবার থেকে তাকে নিয়ে আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। তার এই অকালমৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
শোকাহত পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এমন ঘটনায় আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মরদেহ জামালপুরে ইসলামপুরে তার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। আমরা সাথেই ছিলাম।
