কর্ণফুলী ট্রেন লাইনচ্যুত • মেরামত চলছিল রেললাইনে, জানতেনই না চালক-স্টেশন মাস্টার
কুমিল্লায় কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের তিন শতাধিক যাত্রী। দুর্ঘটনার আট ঘণ্টা পরও উদ্ধার করা যায়নি লাইনচ্যুত বগিগুলো। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে বিকল্প লাইন দিয়ে ঢাকামুখী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
ট্রেনটির লোকোমাস্টারের অভিযোগ, রেললাইনে মেরামতের কাজ চললেও তাকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন ট্রেনটিকে লাইন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টারও। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ট্রাফিক ও প্রকৌশল—দুই বিভাগেরই দায় থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাওটি স্টেশন ও লাকসামের আজগরা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্ণফুলী ট্রেনের লোকোমাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে ‘লাইন ক্লিয়ার’ সংকেত পেয়ে তিনি লাকসাম স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করেন। তাকে কোনো কশন অর্ডার বা গতিসীমা-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। রেললাইনে মেরামতের কাজ চলছে, এমন সতর্কতাও কেউ জানাননি।
বিজ্ঞাপন
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চালানোর সময় প্রায় ১০০ মিটার দূরে লাল পতাকা দেখতে পান। তখন ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ছিল। লাল পতাকা দেখে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেন। তবে ট্রেন থামতে থামতে সামনে গিয়ে দেখেন, রেললাইন বিচ্ছিন্ন এবং সেখানে কাজ চলছে।
মেরামতের কাজের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেনও। তিনি বলেন, রেলপথে মেরামতের কাজ হবে—এমন কোনো বার্তা তাদের কাছে আসেনি। এমনকি কন্ট্রোল রুম থেকেও এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়নি। এ কারণে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনকে লাইন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, নাওটি রেলস্টেশনের আউটারে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে লাকসাম জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনের যাত্রী আবুল কালাম বলেন, তিনি লাকসাম যাচ্ছিলেন। নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর বিকট শব্দে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় তাদের বগির যাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে থাকেন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেখানেই আটকে ছিলেন। কখন ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি দেখে রাতে সেখানেই থাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের ফেনী অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীল বলেন, কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ট্রাফিক ও প্রকৌশল—দুই বিভাগেরই দায় থাকতে পারে। দুটি সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাল পতাকা দেখানোর পরও ট্রেন থামানো যায়নি, আবার মঙ্গলবার থেকে রেললাইনে কাজ চললেও এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশনা পাঠানো হয়নি।
জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে/জেআইএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
