Published on
:
3 min read
সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
লেহরা দো তেরঙ্গা— ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ঘোষিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে কি আজ, শুক্রবার ফের অশান্ত হতে চলেছে লুটিয়েন্স দিল্লি? তাঁর দলের সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে আজ বিকেল পাঁচটায় জাতীয় পতাকা হাতে কনৌট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন দীপকে। এ দিকে, উৎসবের মরশুমের আগে কনৌট প্লেসে বিক্ষোভ কর্মসূচি হলে তাঁদের বেচাকেনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন পালিকা বাজারের হকার অনিলকুমার গুপ্তা। তাঁর মামলার প্রেক্ষিতে অবশ্য সিজেপি–র প্রতিবাদ কর্মসূচির উপরে এ দিন স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি হাইকোর্ট। এ দিকে, দিল্লি পুলিশও আদালতে জানিয়েছে, মামলাকারীর উদ্বেগের কথা মাথায় রেখেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের সব ব্যবস্থা করবে তারা। ঠিক তার পরেই নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন জানায়, শুক্র এবং শনিবার— দু’দিনই বন্ধ থাকবে কনৌট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক! প্রশাসনিক কারণে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনসাধারণের উদ্দেশে দিল্লি পুলিশের আবেদন, কনৌট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার ভারতীয় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা জারি থাকবে, তাই তাঁরা যেন কোনও ধরনের জমায়েত না করেন। সেক্ষেত্রে সিজেপির প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচির কী হবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
সিজেপি অবশ্য আজকের অভিযান নিয়ে আশাবাদী। তারা পাশে পেয়েছে বামেদেরও। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন দীপকে৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা, এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজ-সহ অনেককেই। সেখান থেকে দীপকের অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সেটিং করে ১৩ কোটি ভারতবাসীর নাম বাদ দিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে৷ সরকারের আসল লক্ষ্য, ‘এক দেশ, এক দল এবং এক নেতা’ তৈরি করা৷ জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে প্রতিবাদ ঠেকাতে রাজধানীতে অস্বাভাবিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে৷ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) সংক্রান্ত মতপার্থক্য চেপে দেওয়া হচ্ছে৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে৷ সব কিছু জ্ঞানেশের জন্য! কেন তাঁকে বাঁচাতে চাইছে সরকার?’ নেহা বলেন, ‘প্রতিবাদের খবর করতে আসা সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশ তাঁদের উপরে চড়াও হচ্ছে৷ যৌন হেনস্থার অভিযোগও উঠছে৷ আইন–শৃঙ্খলা না সামলে পুলিশ সাধারণ মানুষের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ছে৷ যাঁরা ভোটাধিকারের কথা বলছেন, তাঁদের জেলে ভরা হচ্ছে!’ ঐশীর ডাক, ‘এখন একজোট হওয়ার সময়৷ আমরা শুক্রবার হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এগোবো৷ তেরঙ্গা হাতে থাকা অবস্থায় আমাদেরই দেশের পুুলিশ কী ভাবে আমাদের সঙ্গে বর্বর আচরণ করে, দেখব আমরা৷’ দিল্লির প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন কিছু লোক ঢুকে চিৎকার করে অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টা করে। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু আজ দিল্লির রাজপথে একযোগে নামা দীপকে, নেহা, ঐশীদের এমন কোনও পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় কি না, সেটাই দেখার।
এ দিকে, কংগ্রেসের অন্দরে নাকি বিক্ষোভ! সূত্রের খবর, ‘চির-প্রতিদ্বন্দ্বী’ বাম ছাত্র সংগঠন আইসার সভানেত্রী নেহাকে কেন বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী— এই প্রশ্নে ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই৷ অসন্তুষ্ট তাদের দু’টি শাখা সংগঠন যুব কংগ্রেস এবং সেবা দলও৷ আসরে নামতে হয়েছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে৷ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইন্দিরা ভবনে এনএসইউআই, সেবা দল এবং যুব কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন খাড়গে, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল৷ সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে খাড়গে এবং রাহুল দু’জনেই দাবি করেছেন— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁদের কাছে প্রাধান্য পাবেন দলের সবস্তরের কর্মী–সদস্যই৷
দলের শাখা সংগঠনগুলির লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় খাড়গের পোস্ট, ‘আমাদের যুব সংগঠন ও অন্য শাখা সংগঠনগুলো অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে মোদী সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের মোকাবিলা করেছে। এই সাহস ও দৃঢ় সংকল্প ভারতের গণতন্ত্রকে রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে।’ কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষোভ দমনের এই প্রয়াস কতটা কার্যকর হবে, তা অবশ্য সময়ই বলবে।
প্রসঙ্গত, জ্ঞানেশের অপসারণ ইস্যুতে নেহাকে সঙ্গে নিয়ে কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করেছেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কারা। বিরোধীদের সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্যও রাখেন নেহা৷ এর পরেই কংগ্রেসের শাখা সংগঠন এনএসইউআই-র তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, বছরের পর বছর ধরে আইসা এবং অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির বিরুদ্ধে তাদের লড়াই কি ব্যর্থ হয়ে গেল? তা না–হলে কেন প্রতিপক্ষ শিবিরের সভানেত্রীকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? নেহা যদি এত প্রাধান্য পান তা হলে কেন সিজেপির সঙ্গে দূরত্ব রাখছে দল? এই প্রসঙ্গেই নেহার পুরোনো একটি ভিডিয়োও উঠে এসেছ। তাতে নেহাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণ-আন্দোলন থেকেই তাঁরা শিক্ষা নিয়েছেন৷ এই ভিডিয়োকে হাতিয়ার করে বিজেপিও ময়দানে নেমেছে৷ বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি অভিযোগ তুলেছেন, ‘নেহা আসলে ভারত বিরোধী শক্তিরই একটি অংশ, যার মূল লক্ষ্য ভারতে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে উত্খাত করা।’
