টানা ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত শেষে আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কারখানাটিতে পুনরায় পুরোদমে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমজীবী মানুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সারনির্ভর কৃষকদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের আশা, কারখানাটির উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আসন্ন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করে। এরপর উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদনে ফিরতে বিলম্ব হয়।
পরবর্তীতে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত ৭ অক্টোবর রাতে কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় ৯ অক্টোবর থেকে আবারও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় কারখানার প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা টানা দুই সপ্তাহ ধরে ত্রুটি মেরামতে কাজ করেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় বয়লারের যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করা সম্ভব হয়। পরে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত হলে শুক্রবার পুনরায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, প্রকৌশলীরা টানা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে দুই দিন আগেই বয়লারের ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে নিরসন করতে সক্ষম হন। এরপর আজ প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলে কারখানায় পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানাটি ১৯৯১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন এ কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহ করে থাকে।