গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা থেকে তুলে নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা হাজতে নির্যাতন, ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি।
অন্যথায় রানা জুয়েলার্সের চুরির মামলায় তাকে জেলে পচানো হবে। ঘুষ দাবি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১২ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপি (IGP) বরাবর লিখিত অভিযোগের পর তড়িঘড়ি আদালতে পাঠানো হয়। ১২ অক্টোবর আদালতের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ করলে ১৫ অক্টোবর শোকজ এর জবাব চায় আদালত।
পরবর্তীতে হয়রানীর লক্ষ্যে কালবেলা পত্রিকায় একপেশে মনগড়া ‘স্বর্ণ লুটের হোতা’ বানিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কারাবন্দি মামুনের স্ত্রী রুনা আক্তার।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে আদাবর থানাধীন শ্যামলী হাউজিংয়ের বালুরমাঠ এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁর স্বামী মামুনকে ২০-২৫ জন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৬৫০) করা হলেও পুলিশ কোনো উদ্ধার তৎপরতা চালায়নি। তবে একই রাত ১টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদপুর থানা হাজতে গিয়ে স্বামীকে দেখতে পান তিনি।
রুনা আক্তার বলেন, “পরদিন ১১ অক্টোবর দুপুরে মোহাম্মদপুর থানার বাইরে এসআই রতন প্রকাশ্যে আমাকে বলেন— ‘মামুনকে ছাড়াতে হলে সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) জন্য ৩০ লাখ টাকার ব্যবস্থা করতে হবে; অন্যথায় রানা জুয়েলার্সের চুরির মামলায় তাকে জেলে পচানো হবে। ঘুষ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় আমার স্বামীর ওপর চালানো হয় বেআইনি ও অমানবিক নির্যাতন।
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে আদালতের চালানপত্রে দেখা যায়, এসআই রতন দাবি করেছেন মামুনকে ১১ অক্টোবর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে আটক করা হয়েছে। অথচ ১০ অক্টোবর রাত মধ্য রাতে আমি তাকে মোহাম্মদপুর থানা হাজতে দেখে আসি । এই চক্রান্তমূলক সময় ও স্থানের অসংগতি প্রমাণ করে পুলিশ ও মাসুদ রানা তাকে ২৪ ঘণ্টা বেআইনি আটক রেখে নির্যাতন চালিয়ে চুরির নাটক সাজিয়েছে।
পুলিশের এই ঘুষ দাবি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১২ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপি (IGP) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মানববন্ধনে কালবেলা পত্রিকার প্রতিবেদকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুনা আক্তার বলেন, “১৫ অক্টোবর একাধিক পত্রিকায় পুলিশের ঘুষ দাবির খবর আসার পর, ১৭ অক্টোবর দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় সাংবাদিক আল-আমিন রাজুর লেখা ‘প্রকাশ্যে জুয়েলারি ব্যবসায়ী, আড়ালে স্বর্ণ লুটের হোতা’ শিরোনামে সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। প্রমাণের আগেই কাউকে গণমাধ্যমে অপরাধী বানানো অপসাংবাদিকতা ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ছাড়া কিছুই নয়।”
তিনি আরও জানান, ভিত্তিহীন এই সংবাদের বিরুদ্ধে কালবেলা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবাদপত্র পাঠানো হলেও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রকাশ বা কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি:
১. দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও সঠিক তথ্য প্রকাশ করা। ২. ভুক্তভোগী পরিবারের পাঠানো প্রতিবাদলিপি কালবেলা পত্রিকায় অবিলম্বে প্রকাশ। ৩. বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া, জিডি ও পুলিশের আটকের সময়-স্থানের জালিয়াতি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত। ৪. সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এসআই রতনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও বেআইনি নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। ৫. চক্রান্তমূলক মিথ্যা চুরির মামলা থেকে মোঃ মামুনের অব্যাহতি ও অবিলম্বে মুক্তি।
৬. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি হস্তক্ষেপে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং সচেতন এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে তারা দেশবাসী ও সাংবাদিকদের সত্য অনুসন্ধানের আকুল আবেদন জানান।
The post এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ, ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রকাশের প্রতিবাদে মাঠে মামুনের পরিবারের মানববন্ধন appeared first on Dhaka Protidin.
