দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সারা দেশের ৩৩ হাজার ৯৭টি পূজামণ্ডপে ২ লাখ ১২ হাজার ১১৪ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় ৭ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ১০৪টি বিশেষ স্ট্রাইকিং টিম। পাশাপাশি গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে জোরদার করা হয়েছে সাইবার নজরদারি।জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক বলেন, প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ জন্য আনসার-ভিডিপি সদস্যরা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, জনসমাগম ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। কোথাও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত থাকবে।
গত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, পূজামণ্ডপে ছোটখাটো কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের ঘটনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাচাই করা তথ্য দ্রুত প্রকাশ করা গেলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পূজামণ্ডপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে সদস্যদের জন্য মোবাইল অ্যাপভিত্তিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত তথ্য পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, পক্ষপাত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বড় ধর্মীয় আয়োজনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সদস্যদের আবাসন, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তাঁদের প্রাপ্য সম্মানি ও ভাতা বাড়ানোর বিষয়েও প্রচেষ্টা চলছে।
বাহিনীর সংস্কার প্রসঙ্গে মহাপরিচালক জানান, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৯৫ সালে প্রণীত বাহিনীর আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন আইন প্রণয়নের কাজও চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালন সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সদস্যদের প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তদারক করছেন।
আনসার-ভিডিপি, পুলিশ, প্রশাসন, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে উদ্যাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মহাপরিচালক।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিন আনসার সদস্যকে পুরস্কৃত করেন বাহিনীর মহাপরিচালক।
-6ad0a222b6a8c.jpgfdgfdfg.jpg&w=1440&q=75)