লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে জয়ের ভিতটা আগেই শক্ত করে রেখেছে বাংলাদেশ। এবার কেবল আনুষ্ঠানিকতা সারার পালা। হাসি মুখে মাঠ ছাড়তে টাইগারদের দরকার আর মাত্র ৭ উইকেট। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সামনে ৩৪৭ রানের অসম্ভব এক পাহাড়।
সমীকরণটা তাই প্রায় একপেশেই বলা যায়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু শেষ দিনের কাজটা এখনো বাকি। আর সেই কাজ সহজ করতে লিটন দাস তাকিয়ে আছেন উইকেটের দিকে। এবার স্পিনাররা হাল ধরবেন, এমনটাই আশা তার।
সোমবার চতুর্থ দিনে লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ইনিংসে ভর করে ৩৭২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংস থেকে ১০৬ রানের লিড থাকায় আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য।
জবাবে দিনশেষে আফগানিস্তান ৩ উইকেটে ১৩২ রান করেছে। সেদিকউল্লাহ আতাল ৩৫ ও হাশমতউল্লাহ শাহিদি ১৯ রানে অপরাজিত। আফগানিস্তানের সামনে এখনো ৩৪৭ রান। আর বাংলাদেশকে জিততে হলে নিতে হবে ৭ উইকেট।
এতো বড় লক্ষ্য তাড়া করে টেস্ট জয়ের কীর্তি নেই ইতিহাসে। টেস্ট ইতিহাসে সফল রান তাড়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪১৮। আবুধাবি টেস্টে জিততে হলে সেই রেকর্ড ভাঙতে হবে আফগানিস্তানকে, করতে হবে আরো ৬১ রান বেশি।
তবে বাংলাদেশের জন্য শেষ দিনের কাজটাও একেবারে সহজ নয়। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকসহ পেসাররা দারুণ সফল হলেও স্পিনাররা আলো ছড়াতে পারেননি। তিন স্পিনার মিলে পেয়েছেন কেবল একটি মাত্র উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানের তিনটি উইকেটই গেছে পেসারদের হাতে। স্পিনাররা ২৮ ওভার করেও কোনো উইকেট পাননি। তাই পঞ্চম দিনে বাংলাদেশ অন্তত স্পিনাদের কাছে কিছু চায়। তাদের অবদান দেখতে চায়।
অবশ্য বল ঘুরলে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের সামনে খুলে যেতে পারে জয়ের দরজা। লিটনের কথায়ও সেই প্রত্যাশাই—চাপ তৈরি করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা।
উইকেটের চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো এটি খুব বেশি স্পিনবান্ধব নয়। তবে পঞ্চম দিনে রাফ থেকে বল ঘুরতে পারে।’
তার বিশ্বাস, স্পিনাররা ভালো জায়গায় বল করে চাপ তৈরি করতে পারলে উইকেট আসবে। সে লক্ষ্যেই বেলা ১২টায় মাঠে নামবে টাইগাররা।
