আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্স। রনজি ট্রফিতে সাত ম্যাচে ৩৭টি উইকেট। তার পরেও জাতীয় দলের দরজা খুলল না মহম্মদ সামির জন্য। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেই দলে জায়গা হয়নি বাংলার অভিজ্ঞ পেসারের। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, সামির ফিটনেস নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন ভারতীয় দলের নির্বাচক ও ম্যানেজমেন্ট। ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট পেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে টানা বোলিং করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ স্পেল করার ধকল সামলাতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নই নাকি ভাবাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
এক সাংবাদিকের দাবি, রনজি ট্রফিতে খেলার পরেও সামির ফিটনেস নিয়ে আস্থা ফিরে পাননি নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। দীর্ঘ স্পেল করার ক্ষমতা নিয়ে সংশয় থাকায় তাঁরা তরুণ বোলারদের দিকে ঝুঁকছেন বলেও দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। যদিও নির্বাচকদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনও বক্তব্য জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, ঘরোয়া ক্রিকেটে সামির পারফরম্যান্স কিন্তু যথেষ্ট নজরকাড়া। ২০২৫-২৬ মরশুমের রনজি ট্রফিতে বাংলার হয়ে সাতটি ম্যাচে ৩৭টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। বোলিং গড় ১৬.৭২। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে তিনটি ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। সেই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল ইস্ট জোন। রনজি ট্রফিতে দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার প্রথম ম্যাচেও দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন সামি।
এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, উইকেট নেওয়ার ক্ষমতায় এখনও যথেষ্ট কার্যকর সামি। কিন্তু নির্বাচকদের উদ্বেগ যদি সত্যিই ফিটনেস ও দীর্ঘ সময় বোলিং করার ক্ষমতা নিয়ে হয়, তা হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর সাফল্যও যে জাতীয় দলে ফেরার জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না, তা স্পষ্ট।
জাতীয় দলে বারবার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন সামি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সামির কথায়, “আমি যদি আর কখনও ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ না পাই, তা হলে সেটা আমার ক্ষতি নয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য, অন্যদিকে ফিটনেস নিয়ে সংশয়ের খবর, দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে সামির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন এখন বড় প্রশ্ন। তবে নির্বাচকদের তরফে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত তাঁকে বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে ফিটনেসের বিষয়টিকে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
