কালবেলা · দেশ
বিয়ের প্রলোভনে ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ: আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের
২৫/১০/২০২৬

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।
সম্প্রতি বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার আসামি তাসমিম মাহিদ চঞ্চল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযোগকারীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সজিব চন্দ্র বণিক। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ।
ফেসবুকে পরিচয়, পরে সম্পর্ক
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আদালত বলেন, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁর স্মোকিং জোনে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন আসামি। এ সময় গোপনে তার আপত্তিকর ছবি তুলে রাখা হয়। পরে ওই ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীকে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান ভুক্তভোগী। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। বিয়ের কথা বললে তার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ১৮ অক্টোবর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তিনি।
মেডিকেল পরীক্ষার প্রতিবেদন
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে শারীরিক সম্পর্কের আলামত থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক ছিল না বলে জানানো হয়। মেডিকেল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর নির্ধারণ করে।
পুলিশের তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
পরীক্ষার জন্য অন্তর্বর্তী জামিন
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তাকে ১০ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ১০ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। আসামির চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার বিষয়ে মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
আপস না হওয়ায় জামিন খারিজ
হাইকোর্টে নির্ধারিত তারিখে মামলাটির শুনানি শেষে দেখা যায়, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি। এরপর জামিন আবেদনের পক্ষে আর কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗