রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের আরও অবনতি হয়েছে। বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৫৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির বায়ুমান স্কোর ২৯৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
তালিকায় ২৩৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এ ছাড়া ১৭৪ স্কোর নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা তৃতীয়, ১৭৩ স্কোর নিয়ে ভারতের মুম্বাই চতুর্থ এবং ১৭২ স্কোর নিয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচকে শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০-কে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০-কে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। স্কোর ৩০১ ছাড়িয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বাংলাদেশে বায়ুমান নির্ধারণে বস্তুকণা পিএম২.৫ ও পিএম১০, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)—এই পাঁচ ধরনের দূষক বিবেচনায় নেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সংস্থাটির হিসাবে, বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে।
ঢাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বাইরে অবস্থানের সময় দূষণের মাত্রা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
