প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ উসকে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান পুলিশ সদস্যরা। এতে কমপক্ষে ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হন।
এদিকে, শনিবারের তুলনায় রোববারের (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভ ছিল আরও বড়। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোবাবর ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ও তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে ১২ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
বিজ্ঞাপন
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরক্ত কর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনি ওে রোববারের বিক্ষোভে মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ ও বেরগামোতে ৮০০ জন মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।
জানা গেছে, মিলানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারেন। জবাবে টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। শহরের কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ও ইতালির সামরিক পুলিশের একটি গাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিও’র বরাত দিয়ে স্কাই টিজি ২৪ চ্যানেল জানিয়েছে, বিক্ষোভের কারণে গত দুই দিনে দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ইউরোরও বেশি (৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ মার্কিন ডলার) মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তুরিনে পুলিশ এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ও তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে ‘মলোটভ ককটেল’ (পেট্রোলবোমা) বহন করার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।
বোলোনিয়ায় রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও ব্যারিকেড ছুড়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে।
বিজ্ঞাপন
মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণগুলো বোধগম্য হলেও, পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা ও শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও একইভাবে এই অস্থিরতার নিন্দা জানিয়েছেন। যারা এই বিক্ষোভকে সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে, তাদের থেকে ইতালীয় তরুণ-তরুণীদের দূরে থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তার দল ‘লিগ’ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে আয়োজকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভের নামে সহিংসতার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানতে তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও বিক্ষোভ করেছেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এসএএইচ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
