শাসনব্যবস্থার জন্য এক ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখে, রাজধানী তিউনিসে হাজার হাজার তিউনিসীয় নাগরিক প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার এবং দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা ।
প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন 'ইউজিটিটি' এবং বিভিন্ন সুশীল সমাজের নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন তিউনিসিয়া মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট, জনসেবার অবক্ষয়, বারবার পানি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে।
প্রেসিডেন্ট সাঈদ ২০২১ এবং ২০২২ সালে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে, বহু বিচারককে বরখাস্ত করে এবং অধ্যাদেশ জারি করে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে একক ক্ষমতা দখল করেন যে পদক্ষেপগুলোকে তার বিরোধীরা অভ্যুত্থান বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, তিনি সুশীল সমাজ, সাংবাদিক এবং বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্রতর করেছেন। তবে সাঈদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে তিনি কোনো স্বৈরাচারী নন। উল্টো তিনি অভিযোগ করেছেন, সামাজিক অসন্তোষ উসকে দিতে বিরোধীরা কৃত্রিম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে।
রাজনৈতিক ঐক্যের এক বিরল দৃশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধী দলগুলো আইনজীবী, ডাক্তার, সাংবাদিক, বেকার যুবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে হাবিব বোরগুইবা অ্যাভিনিউতে পদযাত্রা করেন। ২০১১ সালের যে বিপ্লব আরব বসন্ত উসকে দিয়েছিল, এই সড়কটি ছিল তার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গত কয়েক বছর ধরে বড় জমায়েত করা সম্ভব হচ্ছিল না। সে জায়গায় এই সাম্প্রতিক প্রতিবাদ সাঈদের ক্ষমতার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশে ইউজিটিটি-এর প্রধান সালাহ এদ্দিন সালমি বলেন, ‘নীরবতা আর গ্রহণযোগ্য নয়। সব ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করে রাষ্ট্র গড়ে তোলা যায় না।’
বিক্ষোভ সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘কোনো ভয় নেই, ক্ষমতার মালিক জনগণ!’ এবং ‘কারাগারগুলো কানায় কানায় পূর্ণ, দেশের মানুষ ক্ষুধার্থ!’ তারা ২০১১ সালের বিপ্লবের সেই আইকনিক স্লোগানটিও আবার মুখে ফিরিয়ে আনেন, ‘জনগণ এই স্বৈরাচারী শাসনের পতন চায়!’
তারা সাঈদের সমালোচকদের মুক্তি দাবি করেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক অধিকারের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। কেউ কেউ বেকারত্ব এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যানার বহন করছিলেন।
স্ফ্যাক্স শহর থেকে আগত ইয়াসিন ঘারসেলি নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়! দেশ ধ্বংসের মুখে। আমরা একের পর এক বিদ্যুৎ ও পানি বিভ্রাট এবং সংকটে ভুগছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি স্ফ্যাক্স থেকে আমার স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াতে এসেছি। আমি কখনোই হাল ছাড়ব না। এমনকি যদি আমাকে এই দেশের শেষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরও হতে হয়।’ সূত্র: রয়টার্স
তামান্না রুপা/
