রামচন্দ্রের অকাল বোধন
রামায়ণ অনুসারে শারদীয়া দুর্গাপুজো বা অকাল বোধনের সূচনা করেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। তিনি রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করার জন্য লংকা অভিযান করার আগে অকাল বোধন করে শরত্কালে মা দুর্গার পুজো করেন। রামচন্দ্রের আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বর দেন দেবী।
দেবীর দশহাতে ত্রিশূল, খড়গ, সুদর্শন চক্র, ধনুবার্ন, শক্তি খেটক, পূর্নচাপ, নাগতালা, অংকুশ ও পরশু এ ধরনের অস্ত্র দেখা যায় বলে তিনি দশ প্রহরণ ধারিত্রী।
FAQ
প্রশ্ন. দেবী দুর্গাকে আদ্যাশক্তি বলা হয় কেন?
উত্তর. পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত শক্তির সম্মিলিত রূপ। তিনি জগতের পালন ও অশুভ শক্তির বিনাশ করেন বলে তাঁকে আদ্যাশক্তি বলা হয়।
প্রশ্ন. কোন পুরাণে দেবী দুর্গার মহিমা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর. মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব, মহিষাসুর বধ এবং তাঁর মহাশক্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
প্রশ্ন. রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্যের সঙ্গে দেবী দুর্গার কী সম্পর্ক?
উত্তর. শ্রীশ্রীচণ্ডী অনুসারে, সর্বস্ব হারিয়ে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য মেধা মুনির পরামর্শে দেবীর তপস্যা করেন। তিন বছর কঠোর সাধনার পর দেবী তাঁদের দর্শন দিয়ে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন।
প্রশ্ন. শারদীয়া দুর্গাপুজোর অকাল বোধন কে করেছিলেন?
উত্তর. প্রচলিত রামায়ণকথা অনুসারে, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার আগে শ্রীরামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার অকাল বোধন ও আরাধনা করেন। এই কাহিনির সঙ্গে শারদীয়া দুর্গাপুজোর সূচনার যোগ রয়েছে।
প্রশ্ন. দেবী দুর্গাকে দশপ্রহরণধারিণী বলা হয় কেন?
উত্তর. দেবী দুর্গার দশ হাতে বিভিন্ন অস্ত্র শোভা পায়। এই অস্ত্রগুলির সাহায্যে তিনি অশুভ শক্তির বিনাশ করেন। তাই তাঁকে দশপ্রহরণধারিণী বলা হয়।
প্রশ্ন. দেবী দুর্গার দশ হাতে কী কী অস্ত্র থাকে?
উত্তর. দেবী দুর্গার হাতে ত্রিশূল, খড়্গ, সুদর্শন চক্র, ধনুক-বাণ, শক্তি, খেটক বা ঢাল, পূর্ণচাপ, নাগপাশ, অঙ্কুশ ও পরশুর মতো অস্ত্র দেখা যায়। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় বর্ণনায় অস্ত্রের তালিকায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
