শুরুতে দুই বলে তানজিদ ও সৌম্য ফেরার পর শান্ত ও হৃদয়েও আউট, বিপদে বাংলাদেশ
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরুতেই বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার ফেরার পর আউট হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও।
ক্রীড়া ডেস্কটস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের কাছ থেকে আসে ৪ রান। পরের ওভারে ইয়ামিন আহমাদজাই শুরু করেন দুটি ওয়াইড দিয়ে। এরপর তাঁর দ্বিতীয় বৈধ ডেলিভারিতে অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে সোজা যাওয়া বলে খোঁচা মেরে উইকেটকিপার রাহমানউল্লাহ গুরবাজের গ্লাভসে ধরা পড়েন তানজিদ হাসান।
৬ বলে ১ রান করেন তানজিদ।
পরের বলেই বোল্ড হন সৌম্য সরকার। অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরের বল কাট করতে গিয়ে সেটি স্টাম্পে টেনে আনেন তিনি। তিনে নেমে গোল্ডেন ডাকের তেতো অভিজ্ঞতা হয় বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের।
পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ২ ওভারে দলের রান দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৮।
এরপর কিছুটা আশা দেখাচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ২৩ বলে ১৫ রান করে তিনিও ফিরে যান। তানজিদের মতো তাঁর ক্যাচও যায় উইকেটকিপার রাহমানউল্লাহ গুরবাজের হাতে।
নাজমুল আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও। আজমাতউল্লাহ ওমরজাই নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেন।
বাংলাদেশ: ৭ ওভারে ২৮/৪।
বাংলাদেশের চার উইকেট পড়ে যাওয়ায় ফাইনালে ওঠার হিসাব-নিকাশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগের দুই ম্যাচেই টস জিতে আগে ব্যাট করা দল জিতেছিল। তবে সেই দুই ম্যাচ হয়েছিল আবু ধাবিতে। এবার লড়াই শারজাহতে।
বাংলাদেশের সামনে সমীকরণটা স্পষ্ট—ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলতে হলে অন্তত ৪১ রানে আফগানিস্তানকে হারাতে হবে।
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশে থাকা রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত নেই আজ। তাঁদের জায়গায় খেলছেন আলিস আল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন।
গত মাসে এশিয়ান গেমসে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া আলিসের ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে এই ম্যাচে। এই সংস্করণে বাংলাদেশের ১৫৫তম ক্রিকেটার তিনি। জ্বর সেরে একাদশে ফিরেছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। সোহানের জায়গায় কিপিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন পারভেজ হোসেন।
বাংলাদেশ একাদশ: তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও আলিস আল ইসলাম।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় জয়ের পরও নিজেদের একাদশে জোড়া পরিবর্তন করেছে আফগানিস্তান। বাইরে রাখা হয়েছে ফাজালহাক ফারুকি ও জিয়াউর রেহমান আকবারিকে। তাঁদের জায়গায় এসেছেন ইয়ামিন আহমাদজাই ও বিলাল সামি।
আফগানিস্তান একাদশ: রাহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকউল্লাহ আটাল, রেহমাত শাহ, হাশমাতউল্লাহ শাহিদি, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, মোহাম্মাদ নাবি, রাশিদ খান, এএম গাজানফার, ইয়ামিন আহমাদজাই ও বিলাল সামি।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
