পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে এবং সেখানকার কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরে জুমার নামাজ শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় বাংলাদেশের। পাহাড়কে অশান্ত করার চক্রান্ত চলছে। সেখানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তৎপর রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। পাহাড়ের সাধারণ বাসিন্দারাও শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান।
তার অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
ভারতের সঙ্গে মিলে বিএনপি আওয়ামী লীগের পুরোনো ভূমিকায় ফিরতে চাইছে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রাশেদ খাঁন বলেন, গোলাম পরওয়ার বারবার রাজনৈতিক মিথ্যাচার করছেন। বিএনপির বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুললেও নির্বাচনের আগে জামায়াতের নেতারা ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, জামায়াত এখনো ভারতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছে এবং ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তৎপরতা চালাচ্ছে।
জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে দলটির আগের লংমার্চগুলো জনগণের সমর্থন পায়নি। খুলনার লংমার্চও সফল হবে না বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, জামায়াত জনগণের কল্যাণে কোনো কর্মসূচি দেয় না। এ কারণে দলটির লংমার্চ নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয়।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আগে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপি ও জামায়াতের সমালোচনা করতেন। তখন বিএনপির প্রতি তার ইতিবাচক অবস্থান ছিল। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি থানায় গিয়ে রুমিন ফারহানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ‘চোর’ বলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিলেন। তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে রুমিন ফারহানা বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
এর আগে ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন রাশেদ খাঁন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ডা. মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
