যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনি জালিয়াতির অভিযোগে ২৮ জন গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টােবর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযুক্ত দুই ভারতীয় হলেন- ৩০ বছর বয়সী আমানদীপ কৌর ও ৬৭ বছর বয়সী কমলেশ শাহ। তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ‘অপারেশন প্রটেক্ট দ্য ভোট’ কর্মসূচির আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ওই দুই ভারতীয় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা কমলেশ শাহ ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের দিন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে সেদিনই ভোট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেসের বাসিন্দা আমানদীপ কৌরের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অবৈধভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ২৮ জনই বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি থাকলেও তারা মার্কিন নাগরিক নন এবং সে কারণে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার তাদের নেই।
অভিযোগগুলোর মধ্যে নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের বিষয় রয়েছে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের প্রত্যেকের নাম ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো ২০ হাজারের বেশি সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক ভোটারের তালিকায় রয়েছে।
বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, চলতি বছরে নির্বাচনি অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগে সোমবারের আগে প্রায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় দেশটিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২২ কোটি ৭০ লাখের বেশি।
