ইরফান খানের অভিনয়ের প্রতি কতটা মুগ্ধ ছিলেন, তা নিজেই জানতেন না গুলশন দেবাইয়া। ২০২০ সালের এপ্রিলে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন ‘দ্য লাঞ্চবক্স’-এর অভিনেতা। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে নিজেকে সামলাতে পারেননি গুলশন। ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। পরে বুঝেছিলেন, ইরফানের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা কতটা গভীর ছিল।
এক সাক্ষাৎকারে সেই দিনের কথা স্মরণ করেছেন গুলশন। তাঁর কথায়, “খবরটা শোনার পরে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছিলাম। ইরফান সত্যিই এমন এক অভিনেতা ছিলেন, যাঁর তুলনা হয় না। শুধু আমার কাছে নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছেও ওঁর মৃত্যু ছিল পরিবারের কাউকে হারানোর মতো।”
মায়ের সঙ্গে সেই কথোপকথনের কথাও জানিয়েছেন অভিনেতা। গুলশনের কথায়, “আমি কাঁদছিলাম। মা বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম না, তুমি ওঁকে এতটা পছন্দ করতে।’ আমি বলেছিলাম, ‘আমি নিজেও তো জানতাম না!’”
গুলশনের অভিনয়জীবনে ইরফানের প্রভাব ছিল গভীর। কোনও অভিনয় শিক্ষাকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেননি তিনি। বরং পর্দায় পছন্দের অভিনেতাদের কাজ দেখেই অভিনয়ের খুঁটিনাটি শিখেছেন। তবে কাউকে অনুকরণ করার পথেও হাঁটতে চাননি কখনও।
ইরফানের জন্য ভেঙে পড়েছিলেন গুলশন।
ইরফানের প্রভাব সম্পর্কে গুলশন বলেন, “আমি কখনও ওঁকে নকল করার চেষ্টা করিনি। কিন্তু আমার গোটা অভিনয়জীবন জুড়েই ইরফানের প্রভাব রয়েছে। অভিনয়ের স্কুলে পড়িনি বলে ভাল অভিনেতাদের কাজ দেখেই শিখেছি। ইরফান, মনোজ বাজপেয়ী, ড্যানিয়েল ডে লুইস, রবার্ট ডি নিরো কিংবা কেট উইন্সলেট, কাউকেই নকল করতে চাইনি। এ ভাবেই নিজের অভিনয় শেখার পথ তৈরি করেছি।”
ইরফানের অভিনয়ের কোন বৈশিষ্ট্য তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত? গুলশনের মতে, পর্দায় খুব বেশি কিছু না করেও দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল প্রয়াত অভিনেতার। তাঁর চাহনি, সংলাপ বলার ধরন এবং নির্দিষ্ট মুহূর্তে নীরব হয়ে থাকার মধ্যেও লুকিয়ে থাকত অভিনয়ের জাদু। গুলশনের কথায়, “ইরফান পরের মুহূর্তে কী করবেন, তা বোঝা যেত না। অনেক সময় তিনি খুব বেশি কিছু করতেনও না, বরং নিজেকে সংযত রাখতেন। ওঁর বড় বড় চোখ ছিল যেন ঈশ্বরের দেওয়া উপহার। পর্দায় সামান্য কিছু করেও শুধু চোখের ব্যবহারে দর্শকের মনোযোগ টেনে নিতে পারতেন।”
তিনি আরও বলেন, “কখনও সহ-অভিনেতার দিকে না তাকিয়েও সংলাপ বলতেন। সংলাপ পরিবেশনের ধরনেও ছিল স্বাতন্ত্র্য। হৃতিক রোশন, শাহরুখ খান কিংবা সলমন খানের মতো দেখতে না হলেও ইরফানের মধ্যে এমন এক আকর্ষণ ছিল, যা দর্শককে তাঁর দিকে টেনে আনত। বহু অভিনেতার মধ্যে ইরফান আমার কাছে অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।”
