দিল্লিতে বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অংশ না নেওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি যুক্ত নয় বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
উপদেষ্টা বলেছেন, “সচিব যেহেতু গেছেন, তার মানে বাংলাদেশ তো অংশগ্রহণ করছে।”
সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।
বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দুই দিনের প্রথম বৈঠক শেষ হওয়ার কথা এদিন।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র সচিব মোর্শেদ চৌধুরীসহ তিন সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দিল্লি সফরের কথা বলা হয়।
সাত দেশের জোট বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদের না যাওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নে জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটার আসলে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তবে আমি এটা বলতে চাই— আমরা তো অংশগ্রহণ করছি। এমন যদি হতো বাংলাদেশ বিমসটেক-এ যায়নি! সচিব যেহেতু গেছেন, তার মানে বাংলাদেশ তো অংশগ্রহণ করছে। মন্ত্রীর অন্য কোনো জরুরি ব্যস্ততা থাকতেই পারে।
“সুতরাং বিমসটেকের সাথে বাংলাদেশের বা ভারতের সাথে ব্যাপারটা ওভাবে দেখলে হবে না। যদি আমরা না যেতাম তাহলে সেটা বলা যেতে পারতো। সচিব যাচ্ছেন।”
শুক্রবার খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আমি একাধিকবার বলেছি, আমাদের পুলিশ বাহিনী তার যে সক্ষমতা, তার যে কনফিডেন্স, সেটা পূর্ণাঙ্গ জায়গায় পৌঁছায়নি—যে একটা অপটিমাম জায়গা যেটা রাষ্ট্র ডিজার্ভ করে। এবং এটার পেছনে যে কারণ আছে সেটাও সঠিক কারণ। এ কারণে এটা হওয়ারই হয়তো কথা ছিল, কারণ এই পুলিশ বাহিনী অ্যাজ এ হোল যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল শেখ হাসিনার সময়ে, তারপরে মানুষের যে ক্ষোভ তাদের বিরুদ্ধে ছিল।
“সুতরাং পুলিশ বাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে...আমি কিন্তু একটু ডিফারেন্স বলি, আমি আগেও বলেছি...এই মনোবলের সংকট থাকা, আত্মবিশ্বাসের সংকট থাকা পুলিশ বাহিনী ইন্টারিমের সময়ও ছিল, নির্বাচনের পরও ছিল। আপনি জাস্ট দুটো দিন পর পর...মানে এই ১২ ফেব্রুয়ারির পর পরই আপনি দেখবেন যে অনেক কিছু কমে গেছে। তার মানে দে আর রিগেইনিং দেয়ার কনফিডেন্স।”
তিনি বলেন, এরপরও যে একদম কোনো সংকট নেই, আমরা সেটা বলতে চাই না। কিছু সংকট তো রয়েই গেছে এবং ইট উইল টেক সাম টাইম। এবং আমি বিশ্বাস করি এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটের সরকার, তার যেকোনো আইনি আদেশ প্রতিপালনে পুলিশ বাহিনী তার কনফিডেন্স পুরোপুরি ফিরে পাবে। এবং এটার সময় আরেকটু হয়তো লাগবে। সেই কারণেই আমি বলছি পুলিশ বাহিনী একেবারেই সংকটহীন অবস্থায় আছে ব্যাপারটা সেরকম না।”
