কালবেলা · রাজনীতি
সংসদের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যু, মোটরসাইকেল মালিকের জামিন
১৮/১০/২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে সড়কে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের (৫৬) মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (২৪) নামে মোটরসাইকেল মালিকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী আসামির পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার বলেন, ‘মামলাটির পুলিশ রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত এ আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এ আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় আশা করি খুব শিগগির কারামুক্ত হবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে যে মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছিল সেটার মালিক আসামি মো. রাকিব হোসেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ছিনতাই করার সময় এ মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার সময় সেটা গ্যারেজে ছিল। সেই সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে। পরে ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত আসল মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। শুধু হয়রানি করার জন্য এ আসামিকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছিল।’
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট চোখের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে স্বামী মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে ভোর আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেট সংলগ্ন পাকা রাস্তায় অটোরিকশাযোগে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। ছিনতাইকারীর টানে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।
পরবর্তীকালে তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আব্দুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর গত ৩০ আগস্ট র্যাব-২ অভিযান চালিয়ে তাদের রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করে। আটকের সময় আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও অপরাধে ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। এরপর গত ৩১ আগস্ট আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন আদালত।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗