কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ঘটনায় মোট ১০ পর্যটকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
নিহত তিন শিক্ষার্থী হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলিতা মেহজাবিন আলভী। তারা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। নিহত পরিবারের অন্য তিন সদস্য হলেন মালিহা মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদ।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পান তারা। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছিল। এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, কক্সবাজার শহর থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ একাধিক পর্যটকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিসোর্টটিতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
