ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। জনসভা, পথসভা, হাটসভা ,উঠোন বৈঠক ও গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনি এলাকা। পাশাপাশি সুষ্ঠু ভোট, নির্বাচনি আচরণবিধি ও সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়েও চলছে আলোচনা।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চাইছেন। বলছেন বিরোধী দলের কাউকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে, সে জন্য ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সাথে কৃষকদের সার সংকটের কথা স্বীকার করে সংসদে গেলে জেলায় খোলা বাজারে রাসায়নিক সার বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে ১১-দলীয় জোট-সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন চলমান সরকারি দলের বরাদ্দ প্রদানে অনিয়ম-দুর্নীতির পরিবর্তনে ডিজিটাল ব্যানারে জেলার জন্য প্রাপ্ত বরাদ্দের তালিকা জনগণের অবগতির জন্য পাবলিক প্লেসে স্থাপনের ঘোষণা দেন।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইন্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, ইপিজেড, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ইত্যাদি কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং শিক্ষিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সেই সাথে জেলায় উন্নতমানের হাসপাতাল এবং মা ও শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য আধুনিকমানের হাসপাতাল স্থাপন ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর দুই প্রার্থীই নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেন। রাতে শাহাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এবং নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পথসভা করেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বড়মাঠ) নির্বাচনি জনসভা করেন। এতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা নির্বাচনে মাগুরা মার্কা ভোটের আয়োজন করলে এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে নির্বাচনি মিছিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভুল্লি উপজেলায় জামাত ও বিএনপির কর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বড়গাঁও ইউনিয়ওনের লক্ষীরহাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতে নির্বাচনি প্রচার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। ইতিমধ্যে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে । রোববার সকাল ৯টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
শেষ মুহূর্তের প্রচারে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। এখন সবার নজর ভোটের পরিবেশ, নির্বাচনি আচরণবিধির বাস্তবায়ন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার দিকে।
