দেবীপক্ষ পড়ে গিয়েছে। শুরু হয়েছে নবরাত্রিও। ক্যালেন্ডার বলছে, মর্তে উমা আগমনের আর দিন তিনেক বাকি। তাতে কী? উৎসবের আনন্দ তো খুঁজে নিতে হয় আশপাশের পরিবেশ থেকে। শারদ আবহে আমবাঙালিও তাই গা ভাসিয়েছে সেরা উৎসবে। আজ, দ্বিতীয়া থেকেই শহরজুড়ে পুরোপুরি পুজোর আমেজ। কলকাতার একাধিক নামী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে। তারপরই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছে। তবে জনসমাগমের নিরিখে দ্বিতীয়ার সন্ধ্যায় নজর কাড়ল বিধায়ক সজল ঘোষের পুজো, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। ‘বন্দে মাতরম’ থিমে পুজোদর্শনে আগ্রহী জনতা।
দুর্গাপুজো মানেই মুখ্যমন্ত্রীর ব্যস্ততা অধিক। প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলে পুজো উদ্বোধনের দীর্ঘ তালিকা তাঁর সামনে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার প্রথম দুর্গাপুজো। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পুজোর আবহ একটু অন্য। জাঁকজমকের চেয়ে এবার বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে রীতিনীতি, আচার ও সর্বোপরি হিন্দু ধর্মাচরণের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা। পিতৃপক্ষে যাতে মণ্ডপদর্শন না হয়, সেই বার্তা আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই পাঁজি মেনে দেবীপক্ষের সূচনা হতেই দিকে দিকে পুজোমণ্ডপের দ্বার খুলে গিয়েছে। কলকাতার বেশ কয়েকটি নামী পুজো নিজে উদ্বোধন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোমণ্ডপ খুলে গিয়েছিল প্রতিপদে। আর দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে সূচনা হল উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন, টালা প্রত্যয়ের পুজোর।

কলকাতার পুজোগুলির মধ্যে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার জনপ্রিয়তার তালিকায় উপরের দিকে থাকে। এবছরও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে এবার এই পুজো সেজে উঠেছে। চোখধাঁধানো আলো ও মণ্ডপসজ্জায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার টেক্কা দিচ্ছে অনেক নামীদামি পুজোকেই। আর দ্বিতীয়ায় সেখানে জনতার ঢল প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে নিঃসন্দেহে। পুজোর আমেজ মধ্যগগনে পৌঁছতে এখনও বেশ কয়েকদিন বাকি। তখন ভিড়ের ছবিটা ঠিক কেমন হবে, কে জানে! তবে পুজোর সময়ে এই ছবি দেখেই তো অভ্যস্ত শহরবাসী।

