নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে অনুনয়-বিনয় করে ভোট চেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মাদক পাচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন এই বিরোধীদলীয় নেতা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
বিরোধীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন বক্তব্য সামনে আনছে। তাদের অভিযোগ, জামায়াত পতিত স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। অথচ নির্বাচনের সময় বিএনপি নিজেরাই আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির বিজয়ে আওয়ামী লীগের ভোট ভূমিকা রেখেছে বলে দলটির নেতারা দাবি করেছেন।
সরকার ও প্রশাসনে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তাঁর দাবি, সীমান্ত দিয়ে অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের বিষয়টি সামনে এনে বিরোধীদের দায়ী করা হলেও এসব অনুপ্রবেশ বন্ধের দায়িত্ব সরকারের। সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ হলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। পঞ্চগড়ে কৃষকদের অল্প দামে লাউ বিক্রি করতে হলেও ঢাকায় সেই লাউ কিনতে ভোক্তাদের অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর প্রশ্ন, অপরাধের অভিযোগ ওঠার পর শুধু দলীয় সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে কেন? ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর দাবি, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ এবং বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা প্রকাশ করছে। এসব সমস্যা সমাধান না করে বিরোধীদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ও ১১-দলীয় জোট কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটে অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছেন। কোনো ধরনের হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
তবে সভায় দেওয়া বক্তব্যে বিএনপি সরকার, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
