মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পদত্যাগ বা অন্য কোনো নির্দেশ এলে তা কার্যকর হওয়া মাত্রই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যে কোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যে কোনো নির্দেশ আসার সঙ্গে সঙ্গে সেটি কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়।’
তিনি আরও লেখেন, এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য তৃতীয়, চতুর্থ অথবা আরও দূরবর্তী কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যাচাই করার প্রয়োজন নেই। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কিংবা তার নিজের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওই খবরকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করা হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ওই এলাকায় তার অংশ নেওয়া অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিতে দেখা যায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনার বৈধতা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
